আগস্ট ১০, ২০২৬ ১১:০৭

ঘোপালে যুবলীগ নেতা পারভেজকে কুপিয়ে হত্যা

  • নেপথ্যে স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ
  • তার বিরুদ্ধে ছিলো ১৮ মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি :

ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের জোবায়েদ পারভেজ (৩২) নামের এক যুবলীগ নেতার হাত ও গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার নিজকুঞ্জরা গ্রামে ৯নং ওয়ার্ডের নুর আহাম্মদ মাস্টারবাড়ি এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত জোবায়েদ পারভেজ ওই এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। তিনি ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।


জোবায়েদ পারভেজের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জোবায়েদ পারভেজের দোকানের কর্মচারী করিমুল হক মাইকেল (৩৭) নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।


পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পারভেজকে শেষবার দেখেছিলেন তার বাবা আবু তাহের। শনিবার ভোরে বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ে রাস্তার উপর তার গলা ও হাত কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।


নিহতের ছোট ভাই সাব্বির হোসেনের অভিযোগ, একই গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে পারভেজের দোকান সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। ওই বিরোধের জেরেই পারভেজ কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তার দাবি।


পুলিশ জানায়, জোবায়েদ পারভেজের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, মাদক, চোরাচালান ও চুরিসহ ১৮টিরও অধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও শাহাদাত ও মামুনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।


স্থানীয়দের দাবী পারভেজ এবং শাহাদাত ও মামুন একই গ্রুপের লোক ছিল। সম্প্রতি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। উক্ত বিরোধের জের ধরে শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টায় জোবায়েদ পারভেজ মামুনকে উক্ত পুকুর পাড়ে টর্চ লাইট দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়।


এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে শাহাদাত ও মামুন গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত করে পারভেজকে হত্যা করে।


স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পারভেজ, শাহাদাত ও মামুন চুরি, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত ছিল। খবর পেয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি ও ক্রাইম) সাইফুল ইসলাম ও ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।


ওসি আবু তাহের বলেন, হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!