* প্রস্তুত ২শ ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ৯৩টি স্পিডবোট
* মজুদ শুকনা খাবার ও ১শ টন চাউল
* বিপদসীমার নিচে মুহুরী নদীর পানি
* আরো দুইদিন ভারী বৃষ্টির আশংকা
নিজস্ব প্রতিনিধি :
গত চারদিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য বন্যার শংকায় প্রস্তুত রয়েছে ফেনী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানিয়েছেন।
ফেনী জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, বন্যা মোকাবেলায় জেলায় ২শ ২৪টি স্থায়ী-অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে ফেনী সদরে ৫২টি, সোনাগাজীতে ৪২টি, দাগনভূঞায় ১৫টি, ফুলগাজীতে ৪৪টি, পরশুরামে ২৬টি ও ছাগলনাইয়ায় ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। বন্যা কবলিতদের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার জন্য জেলায় ৯৩টি স্পিডবোট আনা হয়েছে। এরমধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ১৭টি, ফুলগাজী উপজেলায় ১২টি, পরশুরাম উপজেলায় ১০টি, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ২০টি, দাগনভূঞা উপজেলায় ২৪টি ও সোনাগাজী উপজেলায় ১০টি।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র আরো জানায়, বন্যার শংকায় জেলা খাদ্য সহায়তায় মজুদ রয়েছে ১শ টন চাউল ও ১হাজার ১শ ৫০প্যাকেট শুকনা খাবার। স্বেচ্ছাসেবকদের ৩শ ৫৭টি লাইফ জ্যাকেট, ১শ টি রেনকোট ও ২শ পিস গামবুট এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রস্তুত রয়েছে টর্চ লাইট ও হারিকেন।
অন্যদিকে আরো দুইদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৪৫মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি সর্বোচ্চ বিপদসীমা ১২দশমিক ৫৫ মিটার। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০দশমিক ২১মিটার পর্যন্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ভারতের ত্রিপুরায় বৃষ্টিপাত বেশি হলে পাহাড়ি ঢলের পানিতে মুহুরী, কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে ফেনীর বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।