জুলাই ৮, ২০২৬ ২৩:০১

ফুলগাজী উপজেলা পরিষদে

২৬ চেকে ৫১ লাখ টাকা জালিয়াতি, ৩ কর্মচারী গ্রেফতার

ফুলগাজী প্রতিনিধি :

ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ইস্যু করা ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিন কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেক বইয়ের কাউন্টার ফয়েল (মুড়ি) এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ে ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকার সরকারি অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।


অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা যুক্ত করে চেকের টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে টাকার বানানেও পরিবর্তন আনা হয়। তবে চেক বইয়ের কাউন্টার ফয়েলে এসব পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ না থাকায় দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে হিসাব পর্যালোচনার সময় অনিয়মটি ধরা পড়ে। উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল এবং অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ ও নূর ইসলামকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। পরে তাদের ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


জানা গেছে, পার্থ সারথী পাল বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত। এর আগে তিনি ফুলগাজী উপজেলা পরিষদে সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে চেকের অঙ্ক পরিবর্তন করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ সর্বশেষ এমন একটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। একই বছরের মার্চ মাসে পার্থ সারথী পাল ছাগলনাইয়া উপজেলায় বদলি হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো ঘটনার তথ্য মেলেনি।


এদিকে, গত বছরের মে মাসে উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে সংঘটিত রহস্যজনক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই অগ্নিকান্ডের সঙ্গে বর্তমান জালিয়াতির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


অভিযুক্ত পার্থ সারথী পাল ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের সমর পালের ছেলে। নূর ইসলাম ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইয়া গ্রামের বাসিন্দাও মো. ফিরোজের পরশুরাম উপজেলার গুথুমা গ্রামে বাসিন্দা।


সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ফাহরিয়া ইসলাম পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি হয়েছেন। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে হিসাব পর্যালোচনার সময়ই অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে। এই ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের বর্তমান স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।


ফুলগাজী থানার ওসি এসএম মিজানুর রহমান জানান, চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই অপরাধ স্বীকার করেছেন। হিসাব-সংক্রান্ত নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট চেক এবং ব্যাংকের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!