ফিরে দেখা- ২০২৪
সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে রুপ নেয় ট্রাংক রোড
আসামী হয় বিএনপি-শিবিরের ৪শ নেতাকর্মী
শহর প্রতিনিধি :
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশের সাথে আন্দোলকারীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে রুপ নেয় ফেনী শহরের ট্রাংক রোড। এসব ঘটনায় বিএনপি ও শিবিরের ৪শ নেতাকর্মীর নামে করা হয় পৃথক দুটি মামলা।
২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারের সামনে গেলে আন্দোলকারীদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগ। পরদিন ১৯ জুলাই বাদ আসর শহরের সেন্ট্রাল হাইস্কুল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। বড় মসজিদ পর্যন্ত এলে পুলিশ বাধা দিলে তারা সড়কে বসে ‘তুমি কে? আমি কে?’, ‘রাজাকার, রাজাকার’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করলে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের শুরু হয় সংঘর্ষ। আন্দোলকারীরা তাকিয়া সড়ক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
এসময় পুলিশ তখনকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) থোয়াই অং প্রু মারমা নেতৃত্বে আন্দোলকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারগ্যাস, কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
পরদিন ১৯জুলাই শুক্রবার বাদ জুমা শহরের কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদ থেকে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের মারমুখী অবস্থানে পিছু হটেন তারা। অন্যদিকে শহরের জহিরিয়া মসজিদ থেকে আরেকটি বিক্ষোভ বের করে শিক্ষার্থীরা। পরে বাদ আসর আবারো জহিরিয়া মসজিদ ও ইসলামপুর সড়ক থেকে পৃথক দুইটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিল ইসলামপুর রাস্তার মাথা থেকে একসাথ হয়ে শহরের ট্রাংক হয়ে বড় মসজিদ পর্যন্ত গিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় ও একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করলে শুরু হয় সংঘর্ষ। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া পুলিশের রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি এভাবে প্রায় মাগরিবের পর পর্যন্ত দফায় দফায় চলে সংঘর্ষ। পরে সন্ধা ৭টায় পুলিশ ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের ফলে আন্দোলকারীরা পিছু হটে।
২০জুলাই কারফিউর কারণে আন্দোলকারীরা নামতে না পারলেও ২১জুলাই শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করতে গেলে সেখান আবারো পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ১৯ ও ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় সমন্বয়ক, বিএনপি ও শিবিরের ৪শ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯ জুলাই এর ঘটনায় ফেনী মডেল থানার তখনকার এসআই আল আমিন বাদী হয়ে ২১জনের নাম উল্লেখ করে ১শ ৫০ জনকে ও ২১ জুলাই এর ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ১শ ৫০ থেকে ২শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের কর হয়। আসামীদের মধ্যে কোটা আন্দোলন ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়া মোহাইমিন তাজিম ছাড়াও জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম-আহবায়ক গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক নইম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, ছাত্রদল সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন, ছাত্রশিবিরের শহর সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও জেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেনকে আসামি করা হয়।