সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১০:৪৬

যেভাবে ফেনী জেলা বিএনপির যাত্রা শুরু হয়েছিল


নজরুল ইসলাম চৌধুরী


আজ ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপির) ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। বিনম্র চিত্তে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্থপতি, বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের রুপকার, কোটি মানুষের হৃদয়ে গুচ্ছিত “রাখাল রাজা” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার প্রতি।


সম্মানিত পাঠক বৃন্দ , ইতিপূর্বে প্রতি বছর আমার প্রানপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আমার লিখনি তুলে ধরেছি। আজ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফেনী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক যাত্রার শুরু থেকে একজন কর্মী হিসাবে আমার সম্পৃক্ততা নিয়ে কিছু কথা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
১৯৭৭সালে গঠিত জাগদলের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুস সাত্তার তার কমিটির ১৬জন সদস্য নিয়ে জাতীয়তাবাদী গনতান্ত্রিক দল জাগদল এর পদযাত্রা শুরু করেছিলেন। ১৯৭৮ সালের ২৮শে আগষ্ট বিচারপতি আবদুস সাত্তার জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের অন্যতম শরিকদল জাগদল বিলুপ্তি করেন। খুবই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একই সালের ১লা সেপ্টেম্বর বিকাল পাঁচ ঘটিকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনাপত্র পাঠের মাধ্যমে বিএনপির পদযাত্রা শুরু করেছিলেন। বিএনপির সর্বপ্রথম কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি প্রথমে ১৮জন সদস্যের নাম ঘোষনা করেছিলেন। পরবর্তীতে একই মাসের ১৯শে সেপ্টেম্বর পুর্বের ১৮জন সদস্য সহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করেছিলেন।


পুর্বে গঠিত জাগদলের ন্যায় সমগ্র বাংলাদেশে বিএনপি কে সংগঠিত করার বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ (বর্তমানে প্রয়াত)।


একপর্যায়ে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার বিশেষ সমন্বয়কারী হিসাবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিশেষ অনুরোধে সাংগঠনিক দায়িত্বভার গ্রহন করে ঢাকা শাহীন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেপ্টেনেন্ট ব্যারিস্টার এ.জে.এম খলিল উল্লাহ বিএনপি কে সংগঠিত করার জন্য নিজ জেলায় এসেছিলেন।
ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায় রাধানগর ইউনিয়নের নাসির গ্রামে তার জন্ম। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে আমার পদযাত্রা শুরু হয়েছিল। ব্যারিষ্টার খলিল উল্লাহ ছিলেন আমার শ্রদ্ধেয় দাদাজান। মরহুম মৌলভী আলী আকবর চৌধুরীর বৈবাহিক সূত্রে আমার শ্রদ্ধেয় দাদা। সেই পাকিস্তান আমলে আমার নিজ গ্রামের প্রি-প্রাইমারী স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র হিসাবে স্কুলের একটি সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক অনুষ্ঠানে ভোকাল ও বক্তা হিসাবে তার নজরে বন্ধী হয়েছিলাম। তারই প্রেক্ষিতে তিনি আমাকে তার একজন সাথী সহযোদ্ধা হিসাবে সাথে নিয়ে তৎকালীন ফেনী মহকুমার প্রতিটি থানা, গ্রাম, মহল্লার পাশাপাশি নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় বি এন পির সাংগঠনিক কর্মকান্ড কে বেগবান করার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছিলেন। আমি ছিলাম তার বিশ্বস্ত সহযোগী ও একজন কর্মী।


বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, ১৯৭৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে কোন এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ব্যারিষ্টার খলিল উল্লাহ রাজনৈতিক পদযাত্রা থেকে নিজেকে স্থায়ীভাবে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। তৎকালীন বিএনপির চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান ফেনী মহকুমার নির্বাচনী ১ আসনে ব্যারিষ্টার খলিল উল্লাহ কে নমিনেশন দেয়ার বিষয়টি বেশ আলোচিত ছিল। কিন্তু কোন এক কুচক্রী মহলের ন্যাক্কারজনক ষড়যন্ত্রের রোষানলের কারনে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেকে ব্যারিষ্টার খলিল উল্লাহ স্বেচ্ছায় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। সে বিষয় নিয়ে এখন তুলে না ধরা শ্রেয় বলে আমি মনে করি। তবে না বললেই নয় যে , বিষয়টি ছিল খুবেই স্পর্শকাতর ও হৃদয় বিদারক এবং ঘৃনিত।
বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ড বেগবান করার লক্ষ্যে ব্যারিষ্টার খলিল উল্লাহর সাথী হিসাবে তৎকালীন নোয়াখালী জেলার সুনামধন্য আইনজীবী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন (প্রকাশ ইসমাইল উকিল) আবদুর রব চৌধুরী, আবু সুফিয়ান, তৎকালীন যুবনেতা মোহাম্মদ আলী, চৌমুহনী এলাকার বোরহান উদ্দিন ভাই সহ আরো অনেক গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গের সাথে পরিচিত হওয়ার আমার সৌভাগ্য হয়েছিল।


আমার নিজ জেলা (তখনকার মহকুমা) ফেনী জেলার বিএনপির প্রতিষ্ঠা কালীন আহবায়ক ছিলেন তৎকালীন সময়ের বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে আহবায়ক ও সভাপতি ছিলেন তখনকার সময়ের সুনামধন্য ব্যাক্তি মেধা আর প্রজ্ঞাবান সংগঠক মরহুম গিয়াস উদ্দিন পেয়ার। যিনি পরবর্তিতে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ছিলেন। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় তে আহবায়ক ছিলেন মরহুম শহিদ উদ্দিন ফেরদৌস। যিনি পরবর্তিতে জেলা বিএনপির প্রচার-সম্পাদক এবং সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেছিলেন।


ফেনী জেলা বিএনপির আরোআরো অভিভাবক ছিলেন ৭০এর দশক থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত তুখোড় আইনজীবী মরহুম এডভোকেট রফিকুজ্জামান ভুঁইয়া এমপি, মরহুম এডভোকেট আবুল হাসেম মজুমদার।


যিনি ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এডভোকেট মরহুম আবুল হাসেম মজুমদার ছিলেন দক্ষ আইনজীবীর পাশাপাশি একজন দক্ষ সংগঠক। তৎকালীন সময়ে নবীন আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট মরহুম আবু তাহের। যিনি তৎকালীন সময়তে ফেনী সদর থানার সাধারন-সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে ফেনী জেলা বিএনপির সংগ্রামী সভাপতি ছিলেন।


ফেনী জেলা বিএনপিতে ছিলো আরোআরো দক্ষ সংগঠক আজিজুল হক পিন্টু, আবদুল কাদের (কমিশনার) আবু বক্কর মিঞা (পৌর চেয়ারম্যান), সামসুজ্জামান দুতু, বারিক বন্ধু, সাহাব উদ্দিন সাবু, সাদেক আহমেদ , আবুল কালাম পাটোয়ারী, আবুল হাসেম, আবদুর রশিদ সহ আরোআরো অনেক প্রায়াত নেতৃবৃন্দ। সেই সকল গুনিজন ও দক্ষ সংগঠকের মেধা ও প্রজ্ঞা আর নানাহ ত্যাগ আর নিরলস শ্রমের মাধ্যমে ফেনী জেলার প্রতিটি থানা, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নির্বচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করেছিলেন। পরশুরাম থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মরহুম আজিজুল হক পিন্টু। সাধারন সম্পাদক ছিলেন নজরুল ইসলাম ঝাড়ু। ফুলগাজী থানার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মরহুম জামশেদ মজুমদার, সাধারন সম্পাদক ছিলেন মরহুম মাস্টার গোলাম মর্তুজা। পরশুরাম ও ফুলগাজী থানার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন আবু নাসের চৌধুরী, মোহাম্মদ ইউছুফ, করিমুল হক করিম, নিলু মেম্বার, সাজু চৌধুরী, জসিম চৌধুরী, বাবু নারায়ন, আবদুল মোমিন, স্বপন চৌধুরী এবং জাকির হোসেন চৌধুরী সহ আরো অনেকে। ছাগলনাইয়া থানার প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সভাপতি-সাধারন সম্পাদক ছিলেন মরহুম আবদুর রৌপ চৌধুরী, বুলবুল আহমদ। সোনাগাজী থানার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন ডা. দানিয়াল, সাধারন সম্পাদক ছিলেন ওমর গাজী চৌধুরী ভুলু মিঞা, এহছাক আহাম্মেদ, আবুল খায়ের পাটোয়ারী প্রমুখ।


দাগনভুঁইয়া বিএনপির সাংগঠনিক গুরু দায়িত্বে ছিলেন মরহুম সৈয়দ আহমেদ, মরহুম আবদুল মালেক মেম্বার, মরহুম আহাসান ইল্লাহ্ মেম্বার, নুরু মিঞা, জিয়াউল হক জিয়া, সোলতান আহামেদ, ছাত্রনেতা আজাদ সহ আরো অসংখ্য দক্ষ সংগঠকের সমাহারে ফেনী জেলা বিএনপি এক মহাদূর্গ হিসাবে প্রকাশ পেয়েছিল। যে দূর্গ সমগ্র বাংলাদেশে আজো সুপ্রতিষ্ঠিত এবং প্রশংসিত। ফেনী জেলা বিএনপির (আমার অগ্রজ ও অনুজ) যিনারা প্রয়াত হয়েছেন আমি তাদের সবার বিদেহী আত্মার প্রতি কৃতজ্ঞ চিত্তে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। মহান রাব্বুল আল্ আমিন যেন সবাইকে জান্নাতের সর্বশ্রেষ্ঠ মাকাম জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করেন সেই দোয়া করছি এবং আমৃত্যু থাকবে ইনশাআল্লাহ্।
দলের কর্মী ও সদস্যের গন্ডি পেরিয়ে আমি ছাগলনাইয়া থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন পশ্চিম ছাগলনাইয়ার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান রেজাউল করিম।


পরবর্তীতে আমি ১৯৮২ সালে বিপুল ভোটে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমার সাথে ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফেনী শহরের স্থায়ীবাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ (যিনি বর্তমানে প্রয়াত)। মহান রাব্বুল আল্ আমিনের দরবারে আমি মরহুম আবুল কালাম আজাদ সহ সৈয়দ মিজান , শফিউল্লাহ নিজামীসহ সকল প্রয়াত সহযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান রাব্বুল আল্ আমিন যেন সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসাবে কবুল করেন সেই দোয়া করছি। যে দোয়া মহান আল্লাহ সুবহানু ওয়া তালার দরবারে আমৃত্যু থাকবে ইনশাআল্লাহ। কালক্রমে ১৯৮৫সালে আমি ফেনী জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহন করছিলাম। ১৯৮৯সালে তৎকালিন স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী যিনি বিএনপির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করে স্বৈরাচারী এরশাদের মন্ত্রী পরিষদে যোগদানকারী জাফর ইমাম ও তৎকালীন বিএনপি নামধারী কতিপয় ব্যক্তি যারা দিনে বিএনপি আর রাতে জাতীয়পার্টি, এমন দ্বিমুখী নামধারী রাজনীতিক বাজিগরদের রোষানলের কারনে জীবন রক্ষা করার জন্য ১৯৮৯ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম।

খুনি এরশাদের মন্ত্রী জাফর ইমাম আমাকে ছাত্রদল ত্যাগ করে জাতীয়পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজে যোগ দেয়ার জন্য প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল। তখন আমি ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলাম। জাফর ইমাম ফেনী জেলা ছাত্রদল কে ধংশ করার সকল প্রকারের ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভীত কঠিন ইস্পাতের ন্যায় গড়তে সক্ষম হয়েছিলাম।

১৯৮৫ সালে আমি ফেনী জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রচার সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলাম। উল্লেখ্য যে ১৯৮৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমাকে হত্যা করার জন্য এরশাদ শাইর মন্ত্রী জাফর ইমাম ঢাকার কিলার গ্রুপ সিয়াব বাহিনীর লোকবল ফেনীতে এনেছিল। বিশ্বস্ত সূত্রে তৎকালিন ফেনী জেলা জাতীয়পার্টির প্রভাবশালী সদস্য এরশাদের মন্ত্রী জাফর ইমামের বিশ্বস্ত নেতা , বর্তমান ফেনী স্টার লাইন পরিবহন ও স্টার লাইন গ্রুপ অব কোম্পানির সত্বাধিকারী হাজী আলাউদ্দিনের কাছ থেকে জানতে পারি, আমাকে হত্যার জন্য সিয়াব কিলার গ্রুপের লোকজন ফেনীতে অবস্থানের বিষয়টি। পূর্বের বিএনপি-যুবদলের নেতা আলাউদ্দিনের নিকট আমি আমৃত্যু কৃতজ্ঞ থাকবো। তাৎখনিকভাবে আমি গা ডাকা দিয়ে পড়ি। একপর্যায়ে ফেনী জেলা বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা ফেনী নির্বাচনী-২ আসনের এমপি সুনামধন্য ও জন নন্দিত বিশিষ্ট আইনজীবী সবার পরম শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তিত্ব এডভোকেট রফিকুজ্জামান ভুঁইয়া (বর্তমানে তিনি প্রয়াত) এবং ফেনী জেলা বিএনপির সংগ্রামী সভাপতি-বিশিষ্ট আইনজীবী মরহুম এডভোকেট আবুল হাসেম মজুমদার, সাধারন-সম্পাদক মরহুম শহিদ উদ্দিন ফেরদৌস, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মরহুম আজিজুল হক পিন্টু, আবদুল কাদের, সামছুজ্জামান দুতু, গিয়াস উদ্দিন পেয়ার , সাহাব উদ্দিন সাবু ভাই, গিয়াস উদ্দিন পেয়ার ভাইসহ সকলের পরামর্শ এবং আমার পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাণে বাঁচার জন্য আমি দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। দেশ ছাড়ার বিষযটি সেই সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তদকালিন বিএনপির মহাসচিব ব্যারিষ্টার আবদুস সালাম তালুকদারসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অনেকেই নখদর্পনে জানতেন। সে আরেক ইতিহাস, যা ভবিষ্যতে লিখার আশা পোষন করছি ইনশা আল্লাহ্।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আবারো অন্তরের অন্তস্তল থেকে বিনম্রচিত্তে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নির্বাচিত সাবেক রাষ্ট্রপতি মহান স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্থপতি, কোটিকোটি মানুষের হৃদয়ের জাগ্রত রাখাল রাজা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার প্রতি। মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাঁকে জান্নাতের সর্বশ্রেষ্ঠ মাকাম জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করেন সেই দোয়া আমৃত্যু থাকবে ইনশাআল্লাহ।

প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চির অমর হউক। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চির অমর হউক।


লেখক : সাবেক সভাপতি, ফেনী জেলা ছাত্রদল ও সাবেক প্রচার সম্পাদক, ফেনী জেলা বিএনপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!