সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১০:৩৯

ফেনীতে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চোর-ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ীদেরধরে পুলিশে সোপর্দ করুন -ভিপি জয়নাল

শহর প্রতিনিধি :

ফেনীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে শহরের মিড টাউন কমিউনিটি সেন্টার জেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি।

জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক অধ্যাপক এমএ খালেক, গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, সদর উপজেলা আহবায়ক ফজলুর রহমান বকুল ও সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল ও সাধারণ-সম্পাদক এস.এম কায়সার এলিন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন ও সাধারণ-সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন, কৃষকদলের জেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন, মহিলাদলের সভাপতি জুলেখা আক্তার ডেইজি ও জেলা তাঁতীদলের সভাপতি সরোয়ার জাহান শ্রাবন। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আমাকে ২০০১ এ নমিনেশন দিয়েছিলেন। আমি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এমপি ছিলাম। আমি তখন ফেনীর উন্নয়নে কাজ করেছি। ফেনী শহরকেও সাজিয়েছি। আমি দোকানপাট ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করেছি। জহিরিয়া মসজিদ ও বড় মসজিদের দোকানও ভেঙে পেলেছি। জীবনে কারো ক্ষতি করে নাই। পরে ২০০৯ এ আপনাদের ভোটেই আমি আবার এমপি ছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে মাদক ব্যবসা বেড়েছে। অনেক কে আমরা ধরেছি। আরো অনেক কে ধরা হচ্ছে। যারা মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং চোর-বদমাশ, তাদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করুন।’

জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, ‘এখন অনেকে নিজে নিজে নেতা, নিজে নিজে চেয়ারম্যান, নিজে নিজে মেম্বার। ফেসবুকে অমুক ভাইকে প্রার্থী চাই, অমুক ভাইকে এমপি চাই। কোনদিন অমুক ভাইকে প্রধানমন্ত্রী চেয়ে থাকে বলা যায় না। আগে বলে দিচ্ছি, স্থানীয় নির্বাচনে যারা প্রার্থী হতে চান তারা ফ্রেস হোন। আগে নিজেরা ঠিক হয়ে যান। দল থেকে এখনো ঠিক হয়নি, অথচ ফেসবুকে অমুক-তমুক ভাই প্রার্থী প্রচার চালায়। কে আপনাকে প্রার্থী দিয়েছে। দলীয় ফোরামে আলোচনা করে দেয়া হবে। যোগ্যতা বিবেচনা করে প্রার্থী দেয়া হবে, অন্য কোন বিবেচনায় নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরে কোন ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো যাবে না। ব্যক্তির কোন ব্যানার- ফেস্টুন হবে না। দলের একদম কড়া নির্দেশনা।’

দল যোগ্য ব্যাক্তিকে নমিনেশন দিবেন
-আলাল

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন,‘৫ আগস্টের পর আমরা নি:সংকোচে চলাচল করতে পারছি। আগে যেখানে আমাদের বাসায় পুলিশ-বিজিবি ও আওয়ামীলীগ বিভিন্নভাবে হয়রানি করতো, সেটা থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি।’
আলাল বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের এখানে একটা বিষয় এসেছে, স্থানীয় নির্বাচনে সব জায়গায় ১০জন, ১৫জন বা ২০জন প্রার্থী। আসলে বিগত ২০বছরে নির্বাচন না হওয়ায় একটা রাজনৈতিক সেশনজট তৈরি হয়েছে। ফলে এত প্রার্থী হয়েছে। সিনিয়রের সাথে জুনিয়রও তৈরি হয়েছে। তবে আশা রাখুন দলের প্রতি। দল যোগ্য ব্যাক্তিকে নমিনেশন দিবেন।’

এখন ১০-১৫ জন প্রার্থী, আগে ২ জনও পেতাম না
-অধ্যাপক খালেক

ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক অধ্যাপক এম.এ খালেক বলেন, ‘আজকে প্রতি ইউনিয়নে ১০-১৫জন প্রার্থী। অথচ আমরা ইউনিয়নে পদযাত্রার সময় ২জনও পাইনি। তখন আপনারা কোথায় ছিলেন। এখন এতএত প্রার্থী। সব আবার ব্যক্তির প্রচারণা, দলের কোন প্রচারণা নেই। ইউনিয়ন প্রার্থী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো একজনকে দিতে হবে। দল থেকে তাদের দেয়া হবে যাদের এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ত্যাগ আছে, কিন্তু এলাকায় আপনি জিতে আসতে পারবেন এমন তো নাও হতে পারে। এমন প্রার্থী দেয়া হবে যে জিতে আসতে পারবে এবং গ্রহণযোগ্য। তার জন্যই দলের সবাই কাজ করবে।’

জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক বলেন, ‘গত ১৭ বছর ফেনী বিএনপি নির্যাতন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছে। অনেকে অনেক মামলার আসামি হয়েছেন। বিএনপি সরকার আসছে ৬মাস, এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল। দুই বছর চলে গেছে। কিন্তু দুই বছরেও এখনো আমাদের সকল মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। যে মামলাগুলো এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি, এগুলা সব হত্যা মামলা। কিছু হলে এগুলা আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। আমরা আগে চাই, এসব মামলা যেন দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়।’

জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘ছাত্রদলের দীর্ঘ নয় বছর ধরে কমিটি নেই। নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ছাত্রদলে হাহাকার করছে। আমরা এখানে বলতে চাই, ফেনী জেলা ছাত্রদলের কমিটি যেন পুনর্গঠন করা হয়। পাশাপাশি ফেনী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ৬মাসের কথা বলে এখনও আমরা নতুন কমিটি পাইনি। আমরা জেলা বিএনপির কমিটিও দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে আমরা ত্যাগীদের মূল্যায়ন চাই। যারা ১৭বছর সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত তাদের ত্যাগের মূল্যায়ন চাই। আর আমি বলতে চাই, আমরা ত্যাগী নেতাদের পাশে শেষ পর্যন্ত থাকতে চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!