সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৬:০৮

১১দলীয় ঐক্যের লং মার্চ লোকারণ্য মহিপাল জনগণের দাবি পূরণ অনুগ্রহ নয়, বরং ওয়াদার বাস্তবায়ন-বিরোধী দলীয় নেতা


নিজস্ব প্রতিনিধি :

১১দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চে ফেনীর মহিপালের পথসভা জনসমুদ্রে রুপ নেয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল হোসাইনিয়া মাদরাসা সংলগ্ন স্থান থেকে শুরু হয়ে মহিপাল জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ছিলো লোকে-লোকারণ্য। পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামির আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন ফ্যাসিবাদের পদধ্বনী শুনতে পাচ্ছি। পূরণো ফ্যাসিবাদকে বিদায় দিতে সাড়ে ১৫বছর লেগেছে এখন অত সময় দরকার হবেনা। কার কতটুকু বুকের পাটা আছে তা আমাদের জানা। সরকার যেখানে অন্যায় অত্যাচার করবে সেখানে বিরোধী দল প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তারা নির্লজ্জ্ব দলীয়করণ করবে লুটপাট করবে আর বিরোধী দল আঙ্গুল চুষবে তা হবেনা।’ চূড়ান্ত ডাক দিলে সবাইকে বের হওয়ার আহবান জানান ১১দলীয় ঐক্যের এ শীর্ষ নেতা।

তিনি বলেন, ‘সরকার ও বিরোধী দল আমরা উভয় বলেছি, গণভোট বিজয়ী হলে, হ্যাঁ বিজয়ী হলে আমরা তা মেনে নিবো এবং বাস্তবায়ন করবো। ৬মাস চলে যাচ্ছে কিন্তু বর্তমান সরকার তা এখনো বাস্তবায়ন করেনি। প্রথম দিন থেকে এ সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে। জনগণের এ দাবি পূরণ অনুগ্রহ নয়, বরং ওয়াদার বাস্তবায়ন। জনগণের মতকে অতীতে যারা অবহেলা করেছে তাদেরকে করুন পরিণতি বহন করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার গডফাদাররা জায়গায় জায়গায় ছিলো। তাদের অবস্থা এখন দিল্লিতে। তাদের বাড়ী এখন দিল্লিতে। আমাদের কোন দাদা বাবুর বাড়ী নেই। আমাদের কোন বিশেষ বাড়ি নেই। আমাদের এ দেশ গর্বের বাংলাদেশ। এটিই আমাদের ঠিকানা। কেউ কেউ আকাশে মেঘ দেখলে পালিয়ে যায়। আমাদের উপর অত্যাচারের স্টিম রোলার চালানো হয়েছে, এরপরও আমরা দেশ ছেড়ে যাইনি। আমরা আগামীতে যাবো না। মেঘ নয় ঝড়-তুফান ও বজ্রপাত হলেও যাবো না।’

ডা. শফিক বলেন, ‘সারাদেশের কোথাও বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ আছে জাতীয় সংসদের ভিতরে। বিদ্যুৎ আছে বিদ্যুৎ মন্ত্রীর নিজের বাড়ী ঘরে। উনাকে জিজ্ঞেস করলে বলে দেশে বিদ্যুৎ সংকট নেই। মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যারা মিথ্যা কথা বলে তাদের দিয়ে দেশের মানুষের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। ছয় মাস গিয়েছে একটা বিচারেরও এখনো কোন অগ্রগতি নেই। যা হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হয়েছে। আর এখন ওইটুকুর মধ্যে লেংড়া-লুলা হয়ে পড়ে আছে। জনগণের প্রাণের দাবির এ বিচারগুলো এখনো হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা খানিকটা সময় দিচ্ছি। কিন্তু এ সময় দীর্ঘ হবে না। আপনারা প্রস্তুত থাকুন। লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন। আমরা তরুণদের জন্য নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই। আমাদের চাওয়া-পাওয়া নেই। আমরা তরুণদের নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়ে চলে যেতে চাই।’ ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর মুফতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবিপার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু,  জাতীয় গনতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন,এলডিপির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিজামুল বশীর, খেলাফত মজলিসের নেতা আল্লামা মূসা বিন ইজহার, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর এর সেক্রেটারি ডা. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া ও এডভোকেট এস.এম কামাল উদ্দিন, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার ইসহাক, লক্ষীপুর জেলা আমীন মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া, ফেনী জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা এনামুল হক মূসা, এনসিপির জেলা আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত, সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, এবি পার্টির সদস্য সচিব ফজলুল হক, জেলা জাগপা সভাপতি সাইফ উদ্দিন, ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি ইসমাইল হোসেন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া আজাদ, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান।

এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জনগন তার অধিকার থেকে পদে পদে বঞ্চিত হচ্ছে।  গণঅভ্যুত্থানের পর যেখানে আমরা আশা করছিলাম দেশে দূর্ণীতি থাকবে না, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস থাকবে না, দেশে সুশাসন নিশ্চিত হবে, প্রত্যেকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। কিন্তু আমরা দেখছি বিএনপি সরকার নির্বাচন হওয়ার পরপর একটি প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি। বরং দেশ উল্টো পথে যাত্রা শুরু করেছে। তারা এখন সংসদে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছে। দুই-তৃতীয়াংশের জোরে সংস্কারের অধ্যাদেশ বাতিল করেছেন। আপনারা র‌্যাব বিলুপ্ত করবেন বলে করছেন না। আপনারা বলেছিলেন বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন হবে। কি সেটাও করছেন না। ’
তিনি আরো বলেন, ‘এ সরকার যদি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতন নিপীড়ন করে তাহলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। মনে রাখবেন আমরা চুপ করে ঘরে বসে থাকবো না। আমরা ছয় মাস সময় দিয়েছি। যদি আর একদিনও ১১দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতন নিপীড়ন করা হয়, যদি একজনের গায়ে হাত তোলা হয় তাহলে বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে’

এলডিপির সভাপতি কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আমাদের এত গুলো ছেলে শাহাদাত বরণ করেছে। আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। দেশের সুশাসন নিশ্চিত হবে। চাঁদাবাজি থাকবে না, মাস্তানি থাকবে না, দূর্ণীতি থাকবে না এবং প্রত্যেকটি জায়গায় জবাবদিহি হবে। কিন্তু বর্তমান যারা সরকারে আছে তাদের আত্মবিশ্বাস নাই। যার কারণে এ সংস্কার বা গণভোট হয়েছে সেটা তারা এখন মানছেন না।’

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘আজকে বিএনপি সব দলীয়করণের মাধ্যমে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রযন্ত্রে পরিণত করার পায়তারা করছে। তাই শেখ হাসিনার মত করে নতুন করে আবার দূর্ণীতি শুরু হয়েছে। বিএনপিকে আমরা বলতে চাই, জনগণের সাথে যদি প্রতারণা অব্যাহত রাখতে চান, ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন, কৃষক কার্ড দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী গ্যাস, বিদ্যুৎ আর স্যারের কার্ড বিতরণের আশ্বাস দিয়েছেন। মনে রাখবেন, আরো একটা কার্ড আছে, সেটা হলো লাল কার্ড। যদি আপনারা জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে তামাশা করার চেষ্টা করেন, আর যদি গণভোটকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেন তাহলে জনগণ আপনাদের লাল কার্ড দেখিয়ে দিবে।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা সরকারকে বলি, বিদ্যুৎ দিতে পারেন না, দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে পারেন না ও গ্যাস দিতে পারেন না। তাহলে ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার তো আপনাদের নেই। আপনারা জনগণের দাবি মানেন নি। আপনারা গণভোটের রায় মানেননি। আপনারা জনগণের ৭০শতাংশ রায়কে অস্বীকার করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমাদের আন্দোলন শুরু লং মার্চ দিয়ে, আর আন্দোলন শেষ হবে ঢাকা ঘেরাও এর মধ্য দিয়ে। তবে এখনি আমরা ঢাকা ঘেরাও করতে চাই না। আমরা প্রথমে পথে পথে মানুষের কাছে দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সাথে চুক্তি হয়েছিল সংবিধান সংস্কার করা হবে। বলেছিল বিদ্যুৎ এর দাম বাড়াবে না, কিন্তু বিদ্যুৎ এর দাম বাড়ানো হয়েছে। বলেছিল সন্ত্রাস বন্ধ হবে। কিন্তু হয়নি বরং এ ৬মাসে বিএনপির লোকেরা শুধু বিএনপির লোকদের হত্যা করেছে ৩১জন। আপনারা যে ওয়াদা আমাদের সাথে দেয়া হয়েছিল সে ওয়াদা যদি রক্ষা করা না হয় তাহলে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে আবার বিদ্রোহের আগুন প্রজ্বলিত হবে।’পাতা ১ কলাম ২’ ৬নং ছবি লীডের সাইডস্টোরি

আখতার হোসেন বলেন, ‘এ সরকার ক্ষমতায় এসেই বিদ্যুৎ এর দাম বাড়ায়। তারা তেলের দাম বাড়ায়, জ্বালানির দাম বাড়ায়। কিন্তু তারপরও মানুষকে লোডশেডিং-এ ভুগতে হয়। জনগনের পকেট কাটার রাজনীতি শুরু হয়েছে। দেশকে ঋণখেলাপীর দেশে পরিণত করে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সরকার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা তাদেরকে হুশিয়ারী করে বলতে চাই, এদেশের মানুষ অনেক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছে, গুম, খুন ও আয়না ঘর, ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত গিয়েছে। সে দেশের মানুষ ২৪-এ এই বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। সুতরাং দেশের মানুষকে বোকা ভাববেন না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!