* জিওব্যাগের জন্য নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি উত্তোলনকারী বিএনপি নেতার
* প্রতিফুট বালু থেকে ৫০পয়সা জেলা প্রশাসনকে দিচ্ছে বলে দাবি উপজেলা বিএনপি নেতাদের
শহীদুল ইসলাম :
ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত ঘেঁষা পেঁছিবাড়িয়ার সিলোনিয়া নদী থেকে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ-সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া ফারুক প্রকাশ ফারুক নেতা ও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক শাহাদাত মজুমদার। ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় ঝুঁকিতে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণে পাউবো কর্তৃক তৈরি বেড়িবাঁধ। এতে তৈরি হয়েছে নদী ভাঙনের শঙ্কাও।
এদিকে সংবাদ পেয়ে গতকাল সোমবার দুই দফা উপজেলা প্রশাসন থেকে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৫দিন ধরে সিলোনিয়া নদীর পেঁছিবাড়িয়ার আশ্রয়ণ প্রকল্প ও জামে মসজিদের সামনে থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া ফারুক প্রকাশ ফারুক নেতা ও শাহাদাত মজুমদার। প্রথম এক সপ্তাহ আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা থেকে উত্তোলন করলেও গত এক সপ্তাহ ধরে জামে মসজিদ এলাকা থেকে উত্তোলন করছে। অবশ্য গতকাল সোমবার সকালে গিয়ে সেখানে পাইপলাইন দেখা গেলেও ড্রেজার মেশিন দেখা যায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পেঁছিবাড়িয়া জামে মসজিদের সামনে বড় বালুর স্তূপ। সেখান থেকে চারটি পিকআপে করে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে। দশ-বারো জন শ্রমিক পিকআপে বালু ভর্তি করছেন। সেখানে বসে রয়েছেন যুবদল নেতা শাহাদাত মজুমদার। পাশে রয়েছেন বিএনপি নেতা ফারুক। ছবি তুলতে গেলে এক শ্রমিক তা তুলতে নিষেধ করেন। পরে নদীর তীরে গেলে সেখানে পাইপ লাইন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাওয়া গেলেও ড্রেজার মেশিন পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে এ প্রতিবেদককে দেখে দূর থেকে একজন জিজ্ঞেস করলেও তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে তিনটি পিকআপ ও বেশ কিছু শ্রমিককে তড়িঘড়ি করে স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায়।
একটি সূত্র জানায়, বালু উত্তোলনের সঙ্গে ফারুক ও শাহাদাত মজুমদার ছাড়াও আরো একাধিক বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা জড়িত রয়েছে। এছাড়া বালু উত্তোলনের সাথে বন্দুয়ার হারুন পাটোয়ারী নামে আরও একজনের নামও উঠে এসেছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নদীর ওপারে ভারত, এপারে বাংলাদেশ। তারা সীমান্ত থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আরও একাধিক স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কেউই ভয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। জানতে চাওয়া হলে স্বীকার করে জিওব্যাগ এর জন্য বালু নিয়ে যাচ্ছে দাবি করে হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া ফারুক বলেন, ‘গত তিনদিন তোলা হয়েছে শুধু। এর আগে কোনো বালু তোলা হয়নি। মূলত জিওব্যাগ এর জন্য ওখান থেকে বালু তোলা হয়েছে। আশপাশে গাড়ী আশার জায়গা নেই। এজন্য এখান থেকে উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছি।’
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’ ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুল আলম স্বপন বলেন, ‘এটা আমরা অর্থাৎ আমি ও হোসেন ইউএন ও এসিল্যান্ড এর সাথে আজকেও (গতকাল) বসছি। এটা মূলত একটা সরকারি কাজের জন্য। এখান থেকে প্রশাসনকে ৫০পয়সা করে দেয়া হচ্ছে। তবে বিক্রি করছে না।’
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এখানে ইমারজেন্সি কাজ আছে সিলোনিয়া নদীর। ওই কাজের জন্য নেয়া হচ্ছে জানি। মানুষ ভূল বুঝতেছে আসলে। ফুলগাজীতে কোনো বালু মহাল নেই। এজন্য ওখান থেকে বালু তোলা হচ্ছে। অর্থাৎ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে বা সরকারি কাজে ব্যবহার হচ্ছে এগুলো। কথা হয়েছে প্রতিফুট বালুতে ৫০পয়সা করে তাদের দিতে হবে। আমরা সেখান থেকে ফুট প্রতি কিছু অংশ দিয়ে থাকি জেলা প্রশাসনকে।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেলী নোশীন প্রত্যাশা বলেন, ‘আমি গতকাল লোক পাঠিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে তখন ড্রেজার মেশিন পাইনি। এরপরও আমরা আবার যাবো এবং অভিযান পরিচালনা করবো।’ জানতে চাওয়া হলে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসিল্যান্ডকে পাঠিয়েছি। বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’