অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:৩৪

পরশুরাম উত্তর কেতরাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা: সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ


পরশুরাম প্রতিনিধি : পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর কেতরাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মাদরাসার সুপার মাওলানা কামরুল হোসেন এর বিরুদ্ধে। কামরুল হোসেন পুরাতন ওয়াশরুম ও অজুখানাকে ঘষা মাজা ও নতুন রং করে দুই লাখ টাকা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম করে বলে দাবি স্থানীয়দের। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মসজিদের নামে আলমারী নিয়ে নিজে ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে গত শুক্রবারও মসজিদ কমিটির বৈঠক হয়। অভিযোগ রয়েছে তিনি সহকারী শিক্ষক থেকে বিগত সরকারের সময় বড় অঙ্কের বিনিময়ে সুপার পদ বাগিয়ে নেওয়ার।
জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে জেলা পরিষদ পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর কেতরাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসা উন্নয়নের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু মাদ্রাসার সুপার মাওলানা কামরুল হোসেন প্রকল্প দেখিয়ে দশ বছর পূর্বের পুরাতন ওয়াশরুম ও অজুখানাকে নতুন রং করে দিয়ে দুই লাখ টাকা তুলে নেন। এছাড়া ইসলামীক ফাউন্ডেশন এর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আওতায় মসজিদ পাঠাগার প্রকল্প থেকে উত্তর কেতরাঙ্গ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জন্য নিজে কোষাধ্যক্ষ হওয়া সত্বেও সভাপতি পরিচয়ে আলমগীর নিয়ে নিজে ব্যবহার করেন৷ এ নিয়ে একাধিক বৈঠক বসার পর তা ফেরত দিবে বলেও আর দেয়নি৷ সর্বশেষ গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর কমিটির এক বৈঠকের পর ফেরত দিবে বলে জানান। এর বাহিরে অভিযোগ রয়েছে এতিমখানায়।
কামরুল হোসেন সহকারী শিক্ষক থেকে অনিয়ম করে মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে ২০১৫ সালে তখনকার সরকার দলের নেতাদের প্রভাব দেখিয়ে সুপারের পোস্ট হাতিয়ে নেয়। গত ১০বছর প্রতিষ্ঠানের কোন নিয়ম মানে নাই। কিছু বললে নেতাদের দাপট দেখতো। মাদ্রাসায় নিয়মিত অফিস করতো না। ৫আগষ্টের পর এখনো মানছে না। বর্তমান সভাপতি মামার উপর ভর করে পার পাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, আমাদের কপাল খারাপ। এতো বড়ো আলেম।অনিয়ম ছাড়া তার কাছে কোনো নিয়ম নেই। নিয়ম মেনে প্রধানের জন্য যারা আসত, তারা প্রার্থী হিসেবে আবেদনও করতে পারে নাই। গত ১০বছরের অনিয়ম এই মাদ্রাসাকেও ছাড়ে নাই। আমরা সকল অনিয়মের তদন্ত চাই।
২৪শে আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের পর নিজের অপকর্ম ডেকে রাখার জন্য কামরুল হোসেনের আপন মামা ইব্রাহিম হোসেন কে সভাপতি করা হয়। সে আওয়ামী লীগের লোক। ১৯৮৬সালে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ৬নং ওয়ার্ড কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিল। কিন্তু দীঘ দিন ঢাকায় থাকতেন।এর আগে দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় নেতা কে সভাপতি করে রাখেন।এই সভাপতি এখবারের জন্য কখনো মাদ্রাসায় যায়নি। মাদ্রাসার বর্তমান কমিটির সদস্য আবু বক্কর জানান, কমিটি করার পর আমি প্রথমে দাওয়াত পাইছি। কিন্তু অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে ৩ টি মিটিংয়ের দাওয়াত পাই নি। কিন্তু হুজুর স্বাক্ষর করার জন্য মাঝে মাঝে পিয়ন কে পাঠায়। কোন আইনে আছে মিটিং করার আগে স্বাক্ষর দিতে হয়।তিনি আরও জানান, মাদ্রাসার হিসাব কিতাব কিছুই ঠিক নেই। জোহরের আজান দিলে মাদ্রাসা ছুটি হয়ে যায়। বিকাল ৪ টা পর্যন্ত মাদ্রাসা কখনো খোলা থাকে না।
মাদ্রাসা প্রধান কামরুল হোসেন জানান, আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ উদ্দেশ্যে প্রনোদিত।বিগত সরকারের নেতাদের সাথে চলাফেরা করার কারণে এই কথা উঠছে। সব গুলো মিথ্যা।
মাদ্রাসার সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘জেলা পরিষদের বাজেট নিয়ে যে অভিযোগ আসছে এটা মিথ্যা। ২লাখ টাকার বাজেটে ৩০হাজার টাকা ভ্যাট হিসেবে নেয়া হয়েছে। বাকী ১লাখ ৭০হাজার টাকা দিয়ে কাজ চলছে। এরমধ্যে ৮৫হাজার পাওয়া গিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, আলমারী মূলত মাদ্রাসার জন্য নেয়া হয়েছে। কিন্তু মাদরাসার জন্য সরাসরি নিতে পারি নাই বলে মসজিদের নামে নেয়া হয়েছে। মাদরাসার সুপার এর বাসায় এটা ব্যবহার হয়নি। একটি গ্রুপ এগুলো নিয়ে ষড়যন্ত্র করতেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, জেলা পরিষদ থেকে কখন, কি বরাদ্দ এটা আমার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অতনু বড়ুয়া বলেন, অনিয়মের বিষয় আমার নজরে আসছে। কিন্তু জেলা পরিষদের বরাদ্দ নিয়ে আমি বলতে পারব না। আমি কিছুই জানি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!