আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৭:৩৬

ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়ী বহরে হামলা বিএনপি নেতাদের করা মামলায় আসামি নিজদলীয়রাই


* ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামী করে পুলিশের ২টি মামলা
* গণঅভ্যুত্থানের পর হয়েছে ৩টি মামলা
* পরের ২টি মামলায় নিজ দলেরই আসামি ৩০-৩৫জন
* ঘোপালের মামলা নিয়ে হয়েছে ব্যাপক চাঁদাবাজি
* ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রকৃত আসামিরা
* নিজদলীয়দের আসামির বিষয় স্বীকার করলেন ভুট্টো

শহীদুল ইসলাম :

নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে ২০১৭ সালে কক্সবাজার যাওয়া-আসার পথে তৎকালীন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে ফেনীতে দফায় দফায় হামলা চালায় আওয়ামীলীগ দলীয় সন্ত্রাসীরা। ২৮ ও ৩০অক্টোবর সংগঠিত ঘটনায় পুলিশ হামলাকারী আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের আড়াল করে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা করে। মামলা দু’টিতে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার এমনকি তাদেরকে রিমান্ডে নিয়েও নির্যাতন করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলা দু’টি প্রত্যাহার করা হয়। এরপর একে একে থানা ও আদালতে দায়ের করা হয় পৃথক ৩টি মামলা। এই মামলাগুলোতেও উল্ল্যেখযোগ্য সংখ্যক বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়। এতে করে প্রায় ৯ বছর আগে সংগঠিত এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুর ও মুহুরীগঞ্জসহ ফেনী অংশের বিভিন্ন স্থানে গাড়ীবহরে সশস্ত্র হামলা চালায় আওয়ামীলীগ দলীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসিরা। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীদের গাড়ির পাশাপাশি ভাংচুর করা হয় সাংবাদিকদের ৫ থেকে ৭টি গাড়িও। এঘটনায় একে নাজিবুল ইসলাম নামের এক পুলিশ পরিদর্শক অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

৩০ অক্টোবর পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে ফের হামলা হয় ফেনী এলাকায়। এসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে ‘আবারো খাবো’ হোটেলের সামনে দু’টি বাসে আগুন দেয় দূর্বৃত্তরা। এঘটনায়ও ফেনী মডেল থানার এসআই নুরুল হক নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা বাদী হয়ে ২৯জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩৫ থেকে ৪০ জনের নামে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক এমএ খালেক, বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দোলন, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তখনকার ছাত্রদল নেতা নইম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন রিয়াদ পাটোয়ারীসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা আসামি হন। মামলা দু’টিতে পুলিশ বিএনপির ভিপি জয়নাল ও রেহানা আক্তার রানু গ্রুপের দ্বন্ধের জের ধরে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

তবে ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপি পক্ষ থেকে হামলার জন্য ধর্মপুরের তৎকালীন চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সাকা ও শর্শদি ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান জানে আলমকে দোষারোপ করা হয় এবং বিএনপিতে ভিপি জয়নাল বা রেহানা আক্তার রানুর কোনো গ্রুপিং নেই বলে দাবী করা হয়। তখনকার এই দুইটি মামলায় জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, কৃষকদল ও ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকা অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। অনেক নেতাকর্মীকে রিমান্ডে নিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিও নেয়া হয়।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পটপরিবর্তন হলে সে গাড়ী বহরের হামলায় জেলায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপালে গাড়ীবহরে হামলা নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক অর্থ-সম্পাদক সুলতান মুহাম্মদ সিকান্দার ভুট্টো বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় ১টি, শ্রমিকদল নেতা পরিচয়ধারী মহিপাল যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন প্রকাশ হাডু মিলন নিজের বাস পোড়ানোর ঘটনায় ২৮জনের নামে উল্লেখসহ ১শ ৫০ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় এবং বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মনির আহমেদ বাচ্চু বাদী হয়ে ৭২ জনের নাম উল্লেখ করে ১শ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

৩টি মামলার মধ্যে ছাগলনাইয়ার সাবেক বিএনপি নেতা ভুট্টো ও মহিপালের মিলনের করা মামলা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ার মামলাটিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেমন আসামি হয়েছে, তেমনি আসামি হয়েছে জামায়াতের নেতাকর্মীরাও। এ মামলা থেকে যেমন প্রবাসী ও গাড়ী চালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ রেহাই পায়নি, তেমনি রেহায় পায়নি তখনকার অষ্টম-নবম শ্রেণিতে পড়া শিশুরাও। মামলাটি নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় যেমন আসামি করা হয়েছে, তেমনি দলের আধিপত্য ও পারিবারিক বিরোধের প্রতিহিংসায় আসামিও হয়েছেন অনেকে। বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ নিতেও করা হয়েছে আসামি। এ মামলায় বেশিরভাগে ঘোপাল ও শুভপুরের বাসিন্দা। এ মামলা দায়ের করার পিছনে ঘুরে ফিরে উঠে এসেছে ঘোপালের বিএনপি নেতা আলমগীর সিদ্দিকীর নাম। পাশাপাশি এ মামলা দায়েরের পিছনে উঠে এসেছে ঘোপাল ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মোস্তফা মজুমদার, সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির চৌধুরী, যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম বাদশা প্রকাশ লম্বা বাদশা, কামরুল মেম্বার, ইকবাল হোসেন, মোশাররফ হোসেন ও শুভপুরের মাঈন উদ্দিন মামুনের নাম।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর ছাগলনাইয়া থানায় ভুট্টো বাদী হয়ে এই আসনের সাবেক এমপি পলাতক আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দিন নাসিমকে প্রধান আসামি করে মোট ২শ ৫১জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলার নথি বিশ্লেষণ করে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে এ প্রতিবেদক। এরমধ্যে বিএনপির ৬ জন, জামায়াতের ৪ জন, ১ পিকআপ চালক ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ৩জনসহ সকলেই তারা ব্যক্তি আক্রোশের শিকার হয়েছেন বলে দাবী করেন।
একসময় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন আব্দুর রহমান আকন। তার ছেলেও ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়। তবুও আকন এই মামলায় ১০৫নং আসামী। শুধু তাই নয়, ওই মামলায় তার বৃদ্ধ পিতা সিরাজ আলম (৭০) ১৬৭নং আসামি। সিরাজ আলম বলেন, “কখনো কোন দলের সাথে ছিলাম না। আমার ছেলে যারা মামলা করেছে বিএনপির নিজেদের রাজনীতিতে তাদের প্রতিপক্ষ, এজন্য আমাকেও আসামি করা হয়েছে। ঘোপালের বিএনপি নেতা আলমগীর সিদ্দিকী এটা করেছে।”
ছাগলনাইয়া উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ পাটোয়ারী। এই মামলার ২৩৭নং আসামি। ঘটনার সময় তিনি সৌদি আরব ফেনী। ক্লাব ইস্যূতে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিমের (৭৩) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে রণাঙ্গনের সৈনিক ছিলেন দাবী করে বলেন, ঘটনার দিন তিনি ওমরা পালনে ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, এ মামলায় কারো থেকে ৫০ হাজার, কারো থেকে ১ লাখ টাকা বা আরো বেশিও চাঁদা দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের নেতাকর্মীদের কাছে বেশি চাওয়া হয়েছে। এমন ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ভয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। এছাড়া ঘটনার সময় মামলার বাদি সুলতান মুহাম্মদ সিকান্দার ভুট্টো নিজেই প্রবাসে ছিলেন বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।

ছাগলনাইয়া থানা সূত্র জানায়, এই মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে ৮২জন। এরমধ্যে এখনো ৩জন কারাগারে। এছাড়া আরো ১১জন আদালতে হাজির হয়ে জামিনে রয়েছেন।

এদিকে ৩০ অক্টোবর মহিপালে গাড়ী পোড়ানোর ঘটনায় শ্রমিক দল পরিচয় দেয়া আবুল কাশেম মিলন প্রকাশ হাডু মিলনের করা মামলায়ও বিএনপির অন্তত ৮জন নেতাকর্মীকে আসামি হয়েছে বলে দলের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছেন। মিলন নিজেকে শ্রমিক দল নেতা দাবি করলেও গণঅভুত্থানের আগে তিনি শ্রমিকলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বলেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যারে নেতাকর্মীরা জানায়। তবে মিলনের দাবি তিনি শ্রমিকলীগে ছিলেন না। হামলার দিন তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের আপ্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশের দায়ের করা মামলায় তিনি আসামী ছিলেন বলেও দাবী করেন।

তবে মিলনের মামলার বিষয়টি বেশি সমালোচিত হয় সম্প্রতি যুবদলে কমিটি গঠন নিয়ে। গাজী এনামুল হক প্রকাশ সুজন নামে ওই মামলার ১জন আসামি ফেনী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ায় ওই কমিটিসহ পুরো যুবদলের করা ওয়ার্ড কমিটি সমূহ বাতিল করা হয়। একইসঙ্গে বহিষ্কার করা হয় পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে। স্থগিত করা হয় জেলা যুবদলের কমিটি।

মামলায় আসামি হয়েছেন শিশুরাও


ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপালে হামলার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাবেক অর্থ সম্পাদক সুলতান মুহাম্মদ সিকান্দার ভুট্টোর করা মামলায় আসামি হয়েছেন শিশুরাও। এদের অনেকে যেমন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাথে জড়িত, আবার অনেকে কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তিনজনসহ অন্তত আরো একাধিক আসামির সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।
২০০২ সালের ৩ জুলাই জন্মগ্রহণ করে মাহবুবুল ইসলাম (ছদ্মনাম)। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তার বয়স ছিল ১৫বছর ৩মাস। পড়তো নবম শ্রেণিতে। মামলায় তার বয়স দেখানো হয়েছে ২৫বছর। মামলার বয়স হিসেবে তখন ওর বয়স দেখানো হয়েছে ১৮ বছর। তার থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিলো ঘোপালের লম্বা সাইফুল। চাঁদা না দেওয়ায় আসামি করা হয় তাকে। একইভাবে ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া আরো দুই জনের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। ২০১৭ সালে তখন তারা অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো এরমধ্যে একজন রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকার পরও তাকে আসামী করা হয়। এদের দুইজনে নাম প্রকাশ হবে না শর্তে কথা বলেন এই প্রতিবেদকের সাথে। একজন ফেনীর সময়কে বলেন, ‘আমার উপর এখন আমার পরিবার নির্ভর। আমি টাকা দিলে চলে,না হয় চলতে পারে না। কিন্তু এলাকায় যেতে পারি না তেমন। ভাই, নাম প্রকাশ করিয়েন না। করলে আমাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করবে। আমরা আবার অসহায় হয়ে যাবো।’

আসামি জামায়াতের ডজন খানেক নেতাকর্মীও

উপজেলা বিএনপির সাবেক অর্থ সম্পাদক সুলতান মুহাম্মদ সিকান্দার ভুট্টোর করা মামলায় আসামি হয়েছেন জামায়াতের অন্তত ডজনখানেক নেতাকর্মী। এরমধ্যে ঘোপালের পাশাপাশি রয়েছে ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ও লেমুয়া ইউনিয়নের নেতাকর্মীরাও।
ফাজিলপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি আবুল কাশেম মামলার ১শ ৮৩ নাম্বার আসামি। কি জন্য আসামী করা হয়েছে তা জানেন না তিনি। আবুল কাশেম ফেনীর সময়কে বলেন, ‘কারা আসামি করছে, কি জন্য করছে তা কিছুই জানি না। কোন কারণ ছাড়াই আমাকে আসামী করা হয়েছে।’
এ মামলায় আসামি হয় ঘোপাল ইউনিয়ন জামায়াতের তিন নেতাও। তাদের দুইজনের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। একজন ফেনীর সময়কে বলেন, ‘আমাদের হয়রানি করতে ও চাঁদার জন্য এ মামলা দায়ের করে। যদিও চাপে পড়ে মামলায় চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিবে বলছে। তবে এটা দ্বারা প্রচুর নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে।’
জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মজিবুর রহমান জানান, জামায়াতের ১৩ থেকে ১৪জন আসামি হয়েছে। থানার ওসি পরিবর্তন হলে তাদের নাম জমা দিতে হয় যাতে তাদের কোন ধরনের হয়রানি না করা হয়।

শুভপুর বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ নিতেও করা হয়েছে আসামি

উপজেলা বিএনপির সাবেক অর্থ সম্পাদক সুলতান মুহাম্মদ সিকান্দার ভুট্টোর করা মামলায় ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ নিতেও করা হয়েছে আসামি। সেখানে সাবেক উপজেলা বিএনপিরে সদস্য মাইনুল ইসলাম মিনারকে আসামি করা হয়।
জানা যায়, শুভপুর বালু মহালের ইজারাদার ছিলেন ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মাইনুল ইসলাম মিনার। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর শুভপুর বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিএনপি নেতা রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার টিপুর হাতে। পরে তার থেকে নিয়ে নেয় ঘোপালের বিএনপি নেতা আলমগীর সিদ্দিকী। মাইনুল যেন হস্তক্ষেপ করতে না পারে সে জন্য করা হয় আসামি। মাইনুল মামলার জন্য আলমগীর সিদ্দিকীকে জড়িত বলে তিনি দাবি করেছেন। মামলা বিষয় নিয়ে করেছিলেন সংবাদ সম্মেলনও।
মইনুল ইসলাম মিনার জানান, বেগম খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের সাথে করেছেন রাজনীতি। তার আরেক ভাই মহিবুল ইসলাম মামুন শুভপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। দুই ভাই এ মামলার আসামি। এরমধ্যে মঈনুল ইসলাম মিনার ৩২নাম্বার ও মহিবুল ইসলাম মামুন ২শ ৪৮নাম্বার আসামি। বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন তারা। তাদের থেকে ৫লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন মামলার বাদী সুলতান মুহাম্মদ সিকান্দার ভুট্টো। এ ঘটনার পিছনে আলমগীর সিদ্দিকী জড়িত বলে তিনি দাবি করে।
মঈনুল ইসলাম মিনার ফেনীর সময়কে বলেন, “আমরা বিএনপির রাজনীতি করি। ১৯৯৫ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে আছি। সাঈদ ইস্কান্দার ভাইর সাথে ছিলাম। শুধুমাত্র বালুর ইজারা যাতে না নিতে পারি সে জন্য আমি এবং আমার ভাইকে আসামি করা হয়েছে।”

মামলার বিষয়ে জানতেন না বাদী, আরেক বাদী ছিলেন না ঘটনাস্থলে


মহিপালে নিজের গাড়ী পোড়ানোর করা মামলার বিষয়ে নিজেই জানতেন আবুল কাশেম মিলন প্রকাশ হাডু মিলন। মিলন ফেনীর সময়কে বলেন, ‘আমি মামলা লিখতেও জানি না, পড়তেও পারি না। কে কিভাবে লিখতে লিখছে তা আমি জানি না। আমার থেকে সাক্ষর একটা নিয়েছে।’ অন্যদিকে ঘোপালের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মামলার বাদী সুলতান মুহাম্মদ সিকান্দার ভুট্টো বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এটায় পুরা জেলা থেকে আসামি করা হয়েছে। এখানে পরশুরাম-ফুলগাজীরও আছে। আমাদের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা যাচাই-বাছাই করে দিয়েছে। আমি সবাইকে চিনি না। হ্যাঁ,আমাদের দলের অনেকেও আসামি হয়েছে। হয়তো তখন অনেকে প্রতিহিংসা বসত দিয়ে দিছে। তবে আওয়ামী লীগের যারা মামলায় আছে সবাই হামলায় ছিল।”

কী বলছে পুলিশ ও বিএনপি

জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার উল্লেখিত মামলা সমূহ সম্পর্কে বলেন, দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ব্যক্তিগতভাবে যারা এসব মামলা করেছেন এর দায়-দায়িত্ব বিএনপির নয়। তবে ঘটনায় জড়িত প্রকৃত সন্ত্রাসীদের আসামী করে আরেকটি মামলা দায়েরের চিন্তা করছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
অপরদিকে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি  ও ক্রাইম) মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, বারবার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হওয়ায় এখনও চার্জশিট তৈরী হয়নি। তবে উল্লেখিত মামলা সমূহে পুলিশি তদন্তে ঘটনায় জড়িত প্রকৃত আসামীদের সনাক্ত করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন নিরপরাধ লোকজন যাতে হয়রানীর শিকার না হয় এব্যাপারে পুলিশ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!