ইলিয়াছ সুমন ও আজহারুল হক :
ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দাগনভূঞা উপজেলার সিলোনীয়ায় বাস উল্টে শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়।এতে ফাতেমা আক্তার সুরাইয়া (১২) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সুরাইয়া সিলোনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও জায়লস্কর ইউনিয়নের চানপুরের মোহাম্মদ হানিফের মেয়ে। এ ঘটনায় অন্তত আরো ৬ জন আহত হয়। এদের ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,গতকাল রবিবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় সিলোনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বাড়ি যাওয়ার পথে ঢাকা থেকে ছেড়ে আাসা শরিয়তপুরগামী যাত্রীবাহী বাস হ্যাপি ট্রান্সপোর্ট বাজারের স মিলের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরন করেন।
এরমধ্যে ফাতেমা আক্তার সুরাইয়াকে স্টার লাইন স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাইসা আক্তার ও নুসরাত জাহানকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা: মোমিনুল ইসলাম সোহাগ জানান,একজন ছাত্রীকে এখানে আনা হয়েছে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ওসি আসাদুল ইসলাম এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার যে কারণ জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা
কিশান মোশাররফ :
সিলোনিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী আলামপুর গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে সুরাইয়া (১২)। সে সিলোনীয়া হাই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা যায়। দূর্ঘটনাস্থল থেকে তার বাড়ির দুরত্ব ছিলো ৫শ গজের মতো। প্রত্যক্ষদর্শী বাঁশ ডুলি ব্যাপারী মমিন মিয়া বলেন, গাড়ীটি হঠাৎ করে তার মোকামের সামনে উল্টে যায়। গাড়ির নীচে একজনই চাপা পড়ে বলে তিনি জানান।
সিলোনীয়া বাজার কার মাইক্রো সমিতির সভাপতি সুমন বলেন সিলোনীয়া বাজার এলাকায় এবং দাগনভূঞা মুখি মূল সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে যত্রতত্র রাখা হয়েছে শো মিলের গাছ, কোথাও লাইসেন্স বিহীন ট্রাক্টর, কোথাও বালি। এসবের কারণে পথচারীরা নির্বিঘ্নে হাঁটা চলা করতে পারেন না। উল্টো দিক থেকে বেপরোয়া চলাচল করে ব্যাটারি চালিত রিকসা। প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। গত তিন বছরে সিলোনীয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে গাছপালা, ট্রাক্টর, বালু, কণা ইত্যাদি রাখার কারণে গাড়ী চাপা ও দখলী ফুটপাতে গাড়ী দুর্ঘটনায় ৪জন প্রান হারায়।
এছাড়া বাজারের উপরেই সড়কের পাশে রয়েছে মাইক্রো বাসের স্ট্যান্ড। সড়কের উপরে দাঁড়িয়ে থাকে সারি সারি সিএনজি অটোরিকশা। ফলে সবসময় দুর্ঘটনার শংকা নিয়েই চলতে হয় পথচারীদের। এর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী নিহত হওয়ার পর স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছিল ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের। তৎকালীন জেলা প্রশাসক এখানে ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণের কথা দিলেও প্রায় দুই বছরেও তা কার্যকর হয়নি বলে খুব প্রকাশ করেন বাজারের বেশ কয়েকজন দোকানদার।
নাতনীর মৃত্যুর আংশকায়
মারা গেলেন দাদী
হোসাইন সুজন :
দাগনভূঞা উপজেলার সিলোনীয়া বাজারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল ছাত্রী নাতনীর মৃত্যুর আংশকায় হার্ট অ্যাটাকে দাদির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকালে সিলোনীয়া বাজারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া জান্নাতুল ফাহিমাকে পাওয়া যাচ্ছেনা শুনে ঘটনাস্থলে নাতনীর মৃত্যুর আংশকায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন ৭৩ বয়সি দাদি খাইরুল নেসা। তাকে দ্রুত দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একইদিন রাত ১০ টায় উওর আলমপুর জামে মসজিদে মরহুমার জানাজায় অনুষ্ঠিত হয়। জামাজায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর মুফতি আবদুল হান্নান জানাজায় ইমামতি করেন।
জানাজায় দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতের আমীর গাজী সালাউদ্দিন, ইউনিয়ন আমীর সাইফুল ইসলাম ও মরহুমার ছেলে দুলাল মিয়া বক্তব্য রাখেন। পরে পারিবারিক কবরস্থান দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যু কালে তিনি তিন সন্তান রেখে গেছেন।