ঢাকা অফিস : ‘লেডি মীর জাফর’ উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের কাছে নালিশ করেছেন স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সোমবার বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি এ নালিশ করেন।
হাইকোর্টের এই বেঞ্চের আজকের কার্যতালিকায় ৩৬নং থাকা মামলাটির আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এই বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্বে আছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি)নজরুল ইসলাম ছোটন। ক্রম অনুযায়ী মামলাটি শুনানির জন্য ডাকা হলে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ডায়াসের সামনে আসেন। তিনি ডিএজির ফেসবুক পোস্ট আদালতের কাছে উপস্থাপন করে বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটন আমার প্রতি ক্ষোভ থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। আদালতের কাছে আবেদন থাকবে তিনি যেন আমার কোনো মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে না শুনানি করেন। শুনানি করলে তিনি ক্ষোভ থেকেই আমার বিপক্ষে বলবেন। এতে আমার মক্কেল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসময় আদালত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটনের পরিবর্তে ওই কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাগর হোসেনকে শুনানি করতে বলেন। তখন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাগর হোসেন আদালতে বলেন, এই মামলার আসামি একজন অভ্যাসগত অপরাধী। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ইয়াবার ১১টি মামলা রয়েছে। পরে আদালত মামলাটি অবকাশের পর শুনবেন বলে আদেশ দেন।
এদিকে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর লিখিত অভিযোগে তিনি বলেছেন, অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তা পদে অধিষ্ঠিত থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে আমাকে লক্ষ্য করে গত ১১সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং তারিখে অত্যন্ত আপত্তিকর, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ একটি স্ট্যাটাস প্রদান করেছেন। তিনি লিখেছেন, লেডি মীরজাফর রুমিন ফারহানা আফা অতীত খুব দ্রুতই ভুলে যাচ্ছেন।
একজন দায়িত্বে থাকা সরকারি আইন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি, অশোভন, কুরুচিপূর্ণ ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত আচরণ কেবল একজন নারী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার জন্য অপমানজনক নয়, বরং এটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তি ও পেশাদারিত্বকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে, কোনো দলের নয়।
রাষ্ট্রপক্ষের একজন ডিএজি-র কাছ থেকে এরূপ শিষ্টাচারবহির্ভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতএব, বিষয়টি গুরুত্বেও সঙ্গে বিবেচনা করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।