নিজস্ব প্রতিনিধি : ‘এক দেশ, এক কিউআর—লেনদেনে বাংলা কিউআর’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস লেনদেনে মানুষকে উৎসাহিত করতে ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠান নগরে পূবালী ব্যাংক পিএলসির উদ্যোগে বাংলা কিউআর ও ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার সকালে ইউনিয়নের পশ্চিম পাঠানগড় বাজারে এ উপলক্ষে র্যালি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এরআগে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির নোয়াখালী অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক ও অঞ্চল প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাংলা বাজার শাখার ব্যবস্থাপক অহিদুজ্জামান। ফেনী বাজার ইসলামী ব্যাংকিং শাখার এডিসি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাঠাননগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমির হোসেন মোল্লা, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক এবং পশ্চিম পাঠানগড় বাজার কমিটির সভাপতি আমির হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার নোটের কাগজ বিদেশ থেকে আমদানি ও মুদ্রা ছাপাতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করে। আমরা যদি ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হই, তাহলে জনগণের কষ্টার্জিত করের অর্থ সরকার অন্য কোনো কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে পারবে। ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে ময়লা, ছেঁড়া বা অচল নোটের ঝামেলা নেই। যেকোনো জায়গায় যেকোনো ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ভাংতি টাকাও সহজেই পরিশোধ করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পূবালী ব্যাংকের সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহক ‘পাই’ অ্যাপের মাধ্যমে নিরাপদে ও সহজে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংক হিসাবে ২৪ ঘণ্টা অর্থ স্থানান্তর করতে পারেন। পাশাপাশি এ অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, হিসাব বিবরণী সংগ্রহ এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করা যায়।”
মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পাই’ অ্যাপের মাধ্যমে ২৪ঘণ্টা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়। এছাড়া দিনশেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব সহজেই সংরক্ষণ করা সম্ভব। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক লেনদেনকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে নিয়মিত কিউআর পেমেন্ট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক বলেন, ‘পূবালী ব্যাংকের বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা আমি ব্যবহার করেছি। বিশেষ করে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, পাই ব্যাংকিং ও মাইক্রো কিউ আর ব্যবহার করেছি। আমি পূবালী ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।’
তিনি আরও বলেন, “থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় পূবালী ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে স্থানীয় মুদ্রা উত্তোলন করতে পেরেছি। ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন সময়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, সেখানেও পূবালী ব্যাংক নিরাপদ ছিল। ফলে একজন গ্রাহকও পূবালী ব্যাংকের সেবা থেকে বঞ্চিত হননি।”
বাজার কমিটির সভাপতি আমির হোসেন বলেন, “আমি পূবালী ব্যাংকের একজন গ্রাহক। পশ্চিম পাঠান গড়ে অন্তত একটি উপশাখা স্থাপন করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে। আমরা এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
ক্যাম্পেইনে স্থানীয় ব্যবসায়ী, গ্রাহক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা, বাংলা কিউআর ব্যবহারের পদ্ধতি এবং ক্যাশলেস লেনদেনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করা হয়।