সদর প্রতিনিধি : ২৫০শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। আজ সোমবার বিকালে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করে হাসপাতালের খোঁজখবর নেন ও সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। এসময় তিনি হাসপাতালের বর্তমান সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘রোগীদের দু:খ-দুর্দশা লাঘব করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তা আমরা করবো। অনেকে ৫০০শয্যা করার কথা বলতেছে, ৫০০শয্যা নয়, আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য এটাকে মেডিকেল কলেজে রুপান্তর করা। আমরা সেটাকে সামনে রেখে কাজ করছি। কিন্তু তার আগে এখানে যেসব সমস্যা রয়েছে, যেমন এখানে মেশিনারিজ নেই, ৬০০ ভর্তি রোগীর বিপরীতে জনবল কম। এগুলা একটা পরিসংখ্যান দিতে বলেছি, ওই পরিসংখ্যানের আলোকে আমরা এখানের ৪ এমপি রয়েছি। আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সাথে কথা বলে সমাধান করবো।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, সিভিল সার্জন ডা. মো আরিফুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা ও হাসপাতাল ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল।
নাম ফলক ভেঙ্গে ফেলায়
ভিপি জয়নালের ক্ষোভ
হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধনের নামফলক ভেঙ্গে ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি । তিনি বলেন, বিগত সময়ে এখানে আমার নাম ফলক ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সব উপড়ে ফেলা হয়েছে। সেখানে সমস্ত কিছু ভেঙ্গে নিজাম হাজারীর নাম দেয়া হয়েছে। এসময় হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আশ্বাস দিয়েছিলেন। এই হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ করবেন। উনি বেঁচে থাকলে এটাকে মেডিকেল কলেজে উন্নিত করতেন। ইনশাআল্লাহ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন বলে আমরা আশা করি।’ তবে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আপনার নাম ফলক আবার লাগানো হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ককে এমপি মজনু
রোগীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নয়
রোগীরা ডাক্তার ও নার্সদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং জানালা দিয়ে ময়লা আবর্জনা ফেলেন বলে দাবী করেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল। এই বিষয়ে সভায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানান, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু। তিনি বলেন, ‘রোগীদের কথা শুনতে হবে। রোগীরা অনেক কথা বলবে, কিন্তু তাদের কথা শুনতে হবে। তাদের কথা শুনতে না পারলে চাকরি ছেড়ে দেন। প্রয়োজনে অন্যরা আসবে। এরপরও রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে রোগীদের সচেতন করবেন।’
আমরা কোন বিষয়ে অভিযোগ
যেন আর না শুনি -এমপি রানু
এমপি রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘আমরা কোন বিষয়ে অভিযোগ যেন আর না শুনি। বিশেষ করে জরুরী বিভাগ নিয়ে অভিযোগ বেশি থাকে। আমরা এসব কথা শুনতে চাই না। আমরা চাই রোগীদের সেবা যেন নিশ্চিত করা হয়। আমাদের কোনো করণীয় থাকলে সেখানে অবশ্যই আমাদের কাজে লাগাবেন।