কিশান মোশাররফ :
সমবায়ের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা আনয়ন সম্ভব। আর এই সুযোগ সম্ভাবনাকে জোরদার করণ ও সমবায়ীদের উন্নয়ন উদ্বুদ্ধ করণের লক্ষ্যে ১৯৬৩ সালে ফেনীতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে সমবায় ইনস্টিটিউট ফেনী নামের প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৬২-৬৩ সনে ফেনী শহরে একটি ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম শুরু করে ২০০৩ সালে ফেনী শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম কাশিমপুরে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জায়গার নতুন ভবনে পরিপূর্ণ আবাসিক প্রশিক্ষণের এই ইনস্টিটিউটতে বিভিন্ন পদে লোকবল থাকার কথা ১২ জন। কিন্তু শুরু থেকেই যে অর্ধেক জনবল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে ৬৫ বছরেও তা আর পূর্ণ হয়নি। সীমিত জনবল নিয়ে সমবায়ীদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যাক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলেছে ফেনীর এই প্রতিদিনটি। গত ২০ মে সরেজমিন গিয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ঘুরে এই তথ্য জানাযায়।
ফেনী শহরের মহিপাল থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ফেনী-রাজাপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে গাছগাছালির ছায়াঘেরা মনোরম পরিবেশে দুটি দোতলা পাকা ভবন নিয়ে কেন্দ্রটির একটির নীচতলায় সুবিণ্যস্ত প্রশিক্ষণ কক্ষ, দোতলায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের কক্ষাধি বেশ পরিপাটি ও সাজানো। অপর ভবনে আবাসিক প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসন ও খাবার কক্ষ। আছে একটি পৃথক একচালা মসজিদ। জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনারের ছবি সম্বলিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন মঞ্চটিও বেশ চমৎকার।
সমবায় ইন্সটিটিউটটির প্রবেশদ্ধারে আছে একটি মনোরম তোরণ ও নিরাপত্তা চৌকি। প্রবেশদ্ধার থেকে কেন্দ্রের অফিস ও প্রশিক্ষণ কক্ষের খানিকটা দুরত্ব আছে। পাকা রাস্তার দু’ধারে রঙ্গিন গাছগাছালি যে কারো নয়ন কাড়বে। একপাশে বিস্তীর্ণ আবাধি কৃষি জমি অপর পাশে পুকুর। পুকুর পাড়ে বাঁধানো ঘাট। পুরো চত্বর জুড়ে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের সাজানো সারিবদ্ধ পরিপাটি পরিবেশ যে কারো মনকে ভরিয়ে তুলতে যথেষ্ট।
ফেনীস্থ আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউট’এ সমবায় অধিদপ্তরের নন-গেজেটেড কর্মচারীদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ, রিসোর্সেস, অডিট ম্যানুয়াল প্রশিক্ষণ এবং সমবায় সমিতির সদস্যদের জন্য বিভিন্ন রকম আয়-বর্ধক প্রশিক্ষণ এখানে আয়োজন করা হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম বিভাগের বি-বাড়িয়া ব্যতীত অন্য ১০টি জেলার প্রশিক্ষণার্থীরা এখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকেন। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩ জন কর্মকর্তা/কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৬ জন। সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখাযায় প্রশিক্ষক আছেন ২জন, অফিস সহকারী ১ জন, এমএলএস ২ জন, নিরাপত্তাপ্রহরী ১জন। অধ্যক্ষ ১জন থাকলেও তিনি বিসিএস ক্যাডারে সরকারের অন্য সংস্থায় যোগদান করায় অধ্যক্ষ পদ শূণ্য দেখতে পাওয়া যায়। মাস্টাররোলে স্থানীয় রিসোর্স থেকে একজন বাবুর্চি ও একজন বাবুর্চির সহকারী নেয়া হয়। কথা হয় প্রশিক্ষক আব্দুল আজিজের সাথে। তিনি জানান সমবায়ের অধীন বিভিন্ন পর্যায়ের সংস্থা ও সংগঠনের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অফিস ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ আমাদের সমবায়ের নিজস্ব রিসোর্স ট্রেনারদের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আর সংগঠন ও এর আওতাধীন কর্মীদের ট্রেড ভিত্তিক যেমন- কৃষি, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, নার্সারি ইত্যাদি প্রশিক্ষণ আমন্ত্রিত সরকারী বেসরকারি দক্ষ রিসোর্স পার্সনদের মাধ্যমে হাতে কলমে করানো হয়ে থাকে। ফেনী শহর থেকে দুরবর্তী স্থানে ইনস্টিটিউটের অবস্থান। এখানে জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কোন নিজস্ব পরিবহন না থাকায় প্রশিক্ষণ ও অপরাপর প্রশাসনিক কর্মকান্ডে অনেক সময় বেগ পেতে হয়।
তবে জনবল কম হলেও আমরা আন্তরিকতার সাথে সবধরনের কাজ আনজাম দিয়ে আসছি। সরেজমিন পরিদর্শন কালে রাঙ্গামাটি, ফটিকছড়ি, কক্সবাজার, লক্ষীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার নিয়ে ৩০ জনের একটি সমবায় দলকে প্রশিক্ষণে থাকতে দেখা যায়। তাদেরকে হাতে কলমে কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন ফেনী কৃষি বিভাগের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা। পরিবহন সহায়তা ও জনবলের যোগান বাড়ানো গেলে সমবায় ইনস্টিটিউট আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায়কে গতিশীল করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস।