জুন ১৭, ২০২৬ ০০:৩০

দাগনভূঞায় সপরিবারে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সেই ছাত্রদল নেতার মামলা


নিজস্ব প্রতিনিধি :

দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চন্ডিপুর এলাকায় সপরিবারে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ঘটনার প্রায় দুই বছর পর মামলা দায়ের করেছেন ছাত্রদল নেতা আবদুর রহমান মেহেদী (মেহেদী হাসান)। রবিবার ৮জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৪-৫জনকে অজ্ঞাত আসামী দেখিয়ে দাগনভূঞা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।


এজাহারে মেহেদী উল্লেখ করেন, পশ্চিম চন্ডিপুর এলাকার সিরাজ উল্যাহর সাথে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৪সালের ৫অক্টোবর পৈত্রিক বসতভিটায় ঘর করতে চাইলে তারা ১০লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তখন বাক-বিতন্ডার সময় পরিবারের নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানী করে। সেদিন পকেটে থাকা নগদ ১২ হাজার ৪শ টাকা ও গলায় থাকা ৩০হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কখনো বাড়িতে যেতে চাইলে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।


মেহেদীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষের মারধর এবং হুমকির কারণে পৈত্রিক বাড়িতে থাকা সম্ভব হয়নি। বাড়িতে থাকার জন্য একাধিকবার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কোনো প্রকার সহযোগীতা করেনি। এঘটনায় সিরাজ উল্যাহ ছাড়াও তার স্ত্রী নারগিস আক্তার, ডা. শরিয়ত উল্যাহর ছেলে হুমায়ুন কবির, আবুল কাশেমের ছেলে সাইফুল ইসলাম, জামাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন মিন্টু, মো. ইদ্রিছ ভূঞা সুরুজের ছেলে ইব্রাহিম ভূঞা শরীফ, ওবায়দুল হকের ছেলে বাবুল মিয়া, আলাউদ্দিনের ছেলে আনোয়ারা হোসেন রোজেনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়।


দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


গত ৩ জুন স্থানীয় দৈনিক ফেনীর সময় এ ‘আ’লীগ আমলে সপরিবারে ঘরবাড়ি ছাড়ার পর বিএনপি ক্ষমতায় এলেও ফিরতে পারেনি- দাগনভূঞার ছাত্রদল নেতা মেহেদী এখন রিক্সা চালক’ শিরোনামে তথ্যবহুল সংবাদ পরিবেশন হলে তোলপাড় শুরু হয়। সংবাদটি নজরে এলে গত ৭ জুন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তাকে ডেকে নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এর আগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব মেহেদীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে খোঁজখবর নেন। পরিবেশ মন্ত্রী দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জকে ছাত্রদল নেতা মেহেদীর পরিবারকে আইনানুগ সহযোগীতার নির্দেশ দেন। এছাড়া রিক্সা চালানো ছেড়ে দিয়ে চাকরী করতে চাইলে এব্যাপারে সহযোগীতার আশ্বাস দেন পরিবেশ মন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!