মাদক সম্রাট প্রীতমকে
নিয়ে সংবাদে তোলপাড়
পরশুরাম প্রতিনিধি :
পরশুরামে অ্যাম্বুলেন্সে ভারতীয় মাদক চোরাচালানের ঘটনায় জড়িত মাদক সম্রাট প্রীতমকে নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক ফেনীর সময়ে ‘পরশুরামের মাদক সম্রাট কে এই প্রীতম’ প্রধান শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সীর রফিকুল আলম মজনু বলেছেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান সবসময় থাকবে। মাদকের ঘটনার সাথে যে বা যারা সম্পৃক্ত থাকুক তাদের গ্রেফতারে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
গত ২০ জুন পরশুরাম ক্লিনিকের মালিকানাধীন একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে মাদক চোরাচালানের ঘটনায় গ্রেফতার হন অ্যাম্বুলেন্স এর চালক জসীম উদ্দীন ও তার সহযোগী মিনহাজুর রহমান অমি।
এসময় ১১৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের থানায় নিয়ে আসার পর অ্যাম্বুলেন্সের চালক জসীম উদ্দিন পুলিশকে জানিয়েছিলেন, হাসপাতাল সড়কের গীতা মেডিসিন শপের স্বত্বাধিকারী প্রীতম পাল ‘কাঁচের জিনিস’ বলে ৮টি বাক্সে মাদকের বোতলগুলো ফেনী পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স চালককে বলেন। কিন্তু গ্রেফতারকৃত দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলেও বাদ পড়ে যায় মাদকের মূলহোতা প্রীতম পাল। এদিকে এ ঘটনার পর ২০ জুন দুপুরে পরশুরাম ক্লিনিকের মালিক নবী চৌধুরী দাবি করেছিলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়া নিয়ে প্রীতম পাল মাদক পাচার করছিলেন।
গত রবিবার সন্ধ্যায় নবী চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের চালক জসীম উদ্দীনকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে ২০ জুন সকাল ৯টার দিকে থানাতে যাই। চালক জসীম উদ্দীন ও প্রীতম পাল পূর্ব পরিচিত ছিলেন। প্রীতম জসীম উদ্দীন কে দুলাভাই বলে সম্মোধন করতেন। সেখানে চালককে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে সে আমাকে জানায়, ১৯ জুন বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে প্রীতম পাল ওই চালককে ফোন দেন। ফোন দিয়ে বলেন, দুলাভাই আমার কিছু মালামাল ফেনীতে বোনের বাসায় নিয়ে যেতে হবে, আপনি আমাদের বাসায় আসেন। হাসপাতালের পূর্ব পাশে প্রীতম পালের বাসায় অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যান চালক জসীম উদ্দীন। সেখানে চালকের সহযোগী মিনহাজুর রহমান অমির সহায়তায় আটটি বাক্স গাড়িতে তুলে দেন প্রীতম। চালককে তিনি বলেন, আপনারা এগিয়ে যান মুন্সিরহাট থেকে আরও একজন আত্মীয় অ্যাম্বুলেন্সে উঠবে। আমি মোটরসাইকেলে আসছি। এরপরেই শ্রীভাঙ্গা ব্রিজ পর্যন্ত গেলে পুলিশের অভিযানে সেখানে চালকসহ আটক হয় অ্যাম্বুলেন্স।
ফার্মেসী মালিক থেকে মাদক সম্রাট হয়ে উঠা প্রীতম পালকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে পরশুরামের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি পরে বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, মাদকের চালানটি প্রীতম একা পাচার করেছিল এটা বিশ্বাস করা যায় না। তার সাথে বড় একটি সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে। সেই সিন্ডিকেটকে খুঁজে বের করতে হবে। পরশুরাম সীমান্তে কারা কারা মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িত তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সে মাদক চোরাচালানের মামলাটির দ্রুত তদন্ত ও অগ্রগতির জন্য পুলিশের ‘বিশেষ সেলে’ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অন্য একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০ জুনের পর প্রীতম পালের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সকল সীম বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ তার লোকেশন ঢাকার গুপীবাগে ট্র্যাক করা হয়েছিল। এরপর থেকে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত অ্যাম্বুলেন্স চালক জসীম উদ্দীন ও তার সহযোগী মিনহাজুর রহমান অমিকে আদালতের নির্দেশে একদিনের রিমান্ডে এনেছে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গ্রেফতার দুই আসামীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল জানান, আইন অনুযায়ী তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, মাদক চোরাচালানের ঘটনার সাথে যেই জড়িত থাকুক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত প্রীতম পালকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পুলিশ।
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার জানান, তদন্তে কারো সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পেলে অবশ্য চার্জশীটে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। প্রশাসনের কেউই অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেবে না।