সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:৫০

ফেনীতে ব্যাটারি চালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয়, নীতিমালার আওতায় আনার দাবি


শহর প্রতিনিধি :

ফেনীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও মিশুক উচ্ছেদ না করে নীতিমালার আওতায় এনে নিবন্ধন ও লাইসেন্স দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চালক ও গ্যারেজ মালিকরা। বৃহস্পতিবার বিকালে শহরের মিজান রোডস্থ ক্রাউনিস্ট রেস্টুরেন্টে ফেনীর ব্যাটারি চালিত রিকসা-ভ্যান,ইজিবাইক-মিশুক গ্যারেজ মালিকরা এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানন।

তারা বলেন, রোদ-বৃষ্টি, শীত-কুয়াশা উপেক্ষা করে সারাদেশে স্বল্প দূরত্বে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও মিশুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব যানবাহনের সঙ্গে চালক ছাড়াও মেরামত, বডি তৈরি, টায়ার-টিউব ও যন্ত্রাংশ বিক্রি, গ্যারেজ এবং খাবারসহ বিভিন্ন খাতের মানুষ যুক্ত রয়েছেন।

তাদের দাবি, ফেনীতে প্রায় ১০ হাজার এবং সারাদেশে প্রায় ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানবাহন রয়েছে। ফেনীতে এসব যানবাহনের ওপর সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। একজন চালক দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৫শ টাকা আয় করলে ১০ হাজার চালকের দৈনিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মাসে প্রায় ৪৫ কোটি এবং বছরে প্রায় ৫শ ৪০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এ খাত যুক্ত বলে তারা দাবি করেন।

তারা আরো বলেন,‘গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই স্বল্প দূরত্বে চলাচলের ক্ষেত্রে এসব যানবাহনের বিকল্প তৈরি না করেই উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে চালক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকা যেমন সংকটে পড়ছে, তেমনি সাধারণ যাত্রীরাও সমস্যায় পড়ছেন। ফেনী শহর ও গ্রামীণ এলাকার সড়ক ব্যবস্থাপনার বাস্তবতায় স্বল্পগতির যানবাহনের প্রয়োজন রয়েছে।’

তারা বলেন,‘শহরের যানজটের জন্য শুধু তিন চাকার যানবাহনকে দায়ী করা ঠিক নয়। প্রয়োজনের তুলনায় সড়ক সংকীর্ণতা, অবৈধ পার্কিং, রাস্তা ও ফুটপাত দখল, গণপরিবহনের স্বল্পতা, ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য, সার্ভিস রোডের অভাব এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও যানজটের অন্যতম কারণ।’

বিদ্যুতের অপচয় হয় এমন অভিযোগের বিষয়ে তারা বলেন,একটি ব্যাটারিচালিত যানবাহনে সারাদিনে গড়ে ৩ থেকে ৪ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। এসব যানবাহনের অধিকাংশ গ্যারেজে বৈধ বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চার্জ দেওয়া হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয় বলে তাদের দাবি।
গ্যারেজ মালিকদের অভিযোগ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন গ্যারেজের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এবং মালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে।  তারা বলেন, গ্যারেজ মালিকদের হয়রানি ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া চালু, চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূরীকরণ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে এ খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা সম্ভব। উচ্ছেদ, যানবাহন জব্দ, চার্জিং কেন্দ্র বন্ধ কিংবা গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও তারা জানান।

তারা বলেন, ‘উচ্ছেদ না করে কর্মসংস্থান, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং অর্থনীতিতে এর ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।’

সংবাদ সম্মেলনে ৯ নং ওয়ার্ড গ্যারেজ মালিক সমিতির সভাপতি জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন হোটেল, শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি ও গ্যাজেল মালিক সমিতি জেলা পরিচালনা সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক লাল মিয়া। সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল মালেক মানসুরের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সংগঠক মাইন উদ্দিন ও সনিয়া আক্তার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!