সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ০০:৪৮

২৬তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভায় বক্তারা সাংবাদিক মাহবুব উল হক পেয়ারার তুলনা কেবল তিনিই

নিজস্ব প্রতিনিধি

ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক মাহবুব উল হক পেয়ারার ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী রোববার বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে সন্ধ্যায় ফেনী প্রেস ক্লাবে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক ফেনীবার্তা সম্পাদক মীর হোসেন মীরুর সভাপতিত্বে এবং প্রথম আলো প্রতিনিধি নাজমুল হক শামীমের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টার প্রতিনিধি আবু তাহের, দৈনিক সংগ্রামের প্রতিনিধি একেএম আবদুর রহীম, দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ডিবিসি ও অবজারভার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, সাপ্তাহিক ফেনীর খবর সম্পাদক রবিউল হক রবি, যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার আরিফুর রহমান, দৈনিক ফেনীর সম্পাদক আরিফ রিজভী, প্রয়াত পেয়ারা দাদার ছেলে ইমন উল হক, সাপ্তাহিক স্বদেশপত্র সম্পাদক এনএন জীবন, দৈনিক অজেয় বাংলা নির্বাহী সম্পাদক শাহজালাল ভূঁইয়া প্রমুখ।

সভায় বক্তারা ফেনীর উন্নয়ন ও অগ্রতিতে মাহবুব উল হক পেয়ারার অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করে বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তারা বলেন, সাংবাদিকতার পাশাপাশি পেয়ারা দাদা ফেনীর প্রতিটি ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছেন। তার তুলনা কেবল তিনিই। এ প্রজন্মের সাংবাদিকদের তাদের অনুকরণ করা উচিত। শেষে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

মরহুম পেয়ারা দাদা জীবদ্দশায় ফেনী পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ফেনী প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির ফেনী জেলা শাখার সভাপতি, দি পাকিস্তান অবজারবারের ফেনী প্রতিনিধি, দৈনিক ইত্তেফাকের ফেনী সংবাদদাতা, (১৯৭৫-২০০০), ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৯২), রোটারী ক্লাব অব ফেনীর চার্টার্ড সভাপতি সহ বিভিন্ন ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। পৈতৃক ভূমি ফরহাদনগর ইউনিয়নে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন বিশিষ্ট এ সমাজ সেবক মাহবুব-উল হক পেয়ারা। ২০০০ সালের এদিনে ইন্তেকাল করেন ফেনীর প্রথিতযশা এ সাংবাদিক।

তার হাতে গড়া সংগঠনগুলোর মধ্যে ফেনী টাউন ক্লাব, এভারগ্রীন ক্লাব, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, প্লেয়ার্স ইউনিয়ন, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, ব্রাদার্স ক্লাব, মৌসুমী কচি কাঁচাচাঁদ মেলা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ফেনী কলেজ, ফেনী আলিয়া মাদ্রাসা, ফেনী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ফেনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, শিল্পকলা একাডেমী, শিশু একাডেমী, বি এ ভি এস, ফেনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট, বাস মালিক সমিতি সহ অসংখ্য সামাজিক, শিক্ষা, ক্রীড়া ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদে সম্পৃক্ত ছিলেন।

সফল ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে তিনি ১৯৯০ সালে “বাংলাদেশ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ স্বর্ণপদক” পুরস্কারে ভূষিত হন। সমাজ সেবায় অসাধারন অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৭৮ সালে জাতীয় পুরস্কার “স্বনির্ভর বাংলাদেশ” প্রাপ্ত হন। ১৯৮০ সনে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ইসলামিক গেমসে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিবার সুযোগ পান। ১৯৮০ সালে ইসলামিক গেমস্-এ ২৭৫ সদস্যের বাংলাদেশ দলের অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার হিসেবে তুরস্ক সফর করেছেন।

তার পিতা বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য এডভোকেট খান সাহেব বজলুল হক চৌধুরী অত্র অঞ্চলের খ্যাতনামা সমাজ সেবক ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

error: কন্টেন্ট সুরক্ষিত!!