দাগনভূঞা প্রতিনিধি : দেয়াল ও পিলারে ফাঁটল। কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে রড। কোথাও খসে পড়ছে আস্তরণ। ছাদ থেকে ঝরে পড়ছে বালু ও সিমেন্টের গুঁড়ো। বর্ষার মৌসুমে শ্রেণিকক্ষের ভেতরটা স্যাঁতস্যাঁতে। এমনই বেহাল দশা দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুর মকবুল আহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই তলা বিশিষ্ট ভবনের। দুর্ঘটনার আশঙ্কা সত্ত্বেও শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে জরাজীর্ণ এই ভবনে।
জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৯৩সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতাধিক। ২০০১সালে দুই তলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। বিদ্যালয়ের ভবন এমন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সন্তানকে পড়তে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকেরা। প্রধান শিক্ষকসহ স্কুল কর্তৃপক্ষ ইউএনওর কাছে একের পর এক দরখাস্ত দিলেও বিদ্যালয়ের ভবন গুলো সংস্কার করা হচ্ছে না।’
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যালয়ে বর্তমানে আর কোন ভবন না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে। প্রতিটি কক্ষের দেয়ালেই দৃশ্যমান হয়েছে বৃহৎ অংশ জুড়ে ফাটল। যে কোনো মুহূর্তে দেয়াল ধসে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাস চলাকালে মাঝেমধ্যে ছাদের সিমেন্টের আস্তরণ খসে পড়ে। এতে শরীরে অনেক সময় ধুলোবালি এসে পড়ে। তার পরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই ভবনেই ক্লাস করতে হচ্ছে তাদের।
চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র মুয়াজ বলেন, ‘আমাদের স্কুলের ঘর দেখেন কত ভাঙ্গাছুড়া। আমাদের এই ঘরে পড়তে ভয় লাগে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইকরামুল হক বলেন, ‘ভবনের সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ২০২৪ সালে বন্যায় স্কুলের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।’
বিদ্যালয় পিটিএ সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যালয়ের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে অতি দ্রুত আমাদের বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা খুবই জরুরী।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ চিহ্নিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর তালিকা পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার দক্ষিণ নেয়াজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সমস্যার অভিযোগ পেয়েছি। সরজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।