সর্বশেষ সংবাদ :

    • দৈনিক ফেনীর সময় নতুন ‍আঙ্গিকে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে....

আজ ১৫ ভাদ্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ | |

ফেনী সদর ও সোনাগাজীর ১৫ ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহন

স্টাফ রিপোর্টার : ফেনী সদর উপজেলার ৬ ও সোনাগাজী উপজেলার ৯ ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারদের শপথ গ্রহন গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো: আমিন উল আহসান নবনির্বাচিত ১৫ ইউপি চেয়ারম্যানকে শপথ পাঠ করান। শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আবু দাউদ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বি.কম, সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিকেএম এনামুল করিম, সোনাগাজী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্বর্শী সম্বোধী চাকমা। চেয়ারম্যানগণ হলেন যথাক্রমে শর্শদী ইউপির জানে আলম, পাঁচগাছিয়া ইউপির আনোয়ার হোসেন মানিক, ফাজিলপুর ইউপির মজিবুল হক রিপন, কালিদহ ইউপির দিদারুল আলম, কাজিরবাগ ইউপির এড. কাজী বুলবুল আহমদ সোহাগ, মোটবী ইউপির হারুনুর রশিদ, সোনাগাজীর চরমজলিশপুর ইউপির এম এ হোসেন, বগাদানা ইউপির ক.খ.ম ইসহাক খোকন, মঙ্গলকান্দি ইউপির মোশাররফ হোসেন বাদল, মতিগঞ্জ ইউপির রবিউজ্জামান বাবু, চরদরবেশ ইউপির নুরুল ইসলাম ভুট্টু, চরছান্দিয়া ইউপির মোশাররফ হোসেন মিলন, সদর ইউপির সামছুল আরেফিন, আমিরাবাদ ইউপির জহিরুল আলম জহির ও নবাবপুর ইউপির দেলোয়ার হোসেনকে শপথবাক্য পাঠ করান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।

ছাগলনাইয়া-শ্রীনগর বর্ডার হাটে মোবাইল চুরির হিড়িক!

মোহাম্মদ শেখ কামাল : ছাগলনাইয়া-শ্রীনগর বর্ডার হাটে মোবাইল চুরির হিড়িক পড়েছে। প্রতি হাটে ক্রেতারা সেখানে গিয়ে হারাচ্ছে তাদের ব্যবহৃত মূল্যবান মোবাইল ফোন। দি বাংলাদেশ টু-ডের ছাগলনাইয়া উপজেলা প্রতিনিধি ও মাসিক হায়দার পত্রিকার বার্তা সম্পাদক কপিল উদ্দিন গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ছাগলনাইয়া-শ্রীনগর বর্ডার হাটে যান। কেনাকাটা করার সময় ভীড়ের মধ্যে কে বা কাহারা তার প্যান্টের পকেট থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি (স্যামসং এস-৫-জি-৯০০এফ) চুরি করে নিয়ে যায়। হাটের দোকানদাররা জানান, গত ২আগষ্ট মঙ্গলবারের হাটেও ২টি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিয়ত বর্ডার হাটে মোবাইল ফোন চুরি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে হাট জুড়ে চোর আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিক কপিল উদ্দিন বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। এছাড়া দুই বাংলার সীমান্তের এই হাটে মোটর সাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটেছে।

‘এমপি নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে ঢাকায় বসে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে’

স্টাফ রিপোর্টার : ফেনী পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা হাজী আলাউদ্দিন বলেছেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপির বিরুদ্ধে ঢাকায় বসে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যারা ষড়যন্ত্র করছে তারাই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে মদদদাতা। গতকাল মঙ্গলবার ফেনী পৌরসভার উদ্যোগে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিরোধী মানববন্ধনে তিনি আরো বলেন, ফেনী অতীতে সন্ত্রাসের জনপদ ছিল। অনেক কষ্টের বিনিময়ে নিজাম উদ্দিন হাজারী সন্ত্রাস বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। সহাবস্থানের রাজনীতি নিশ্চিত করেছেন। এখন আর আগের মত হানাহানি নেই। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে পাড়া-মহল্লার সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহবান জানিয়ে মেয়র হাজী আলাউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইসলামের নামে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই এসব কর্মকান্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিকভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।

সোনাগাজীতে তিনদিন ব্যাপি বৃক্ষ মেলা শুরু

সোনাগাজী প্রতিনিধি : সোনাগাজীতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে তিনদিন ব্যাপী ফলদ ও বৃক্ষ মেলা গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। সোনাগাজী মো: ছাবের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান জেড.এম কামরুল আনাম। ‘অর্থ, পুষ্টি স্বাস্থ্য চানÑদেশী ফল বেশি খান’ এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদর্শী সম্বোধী চাকমা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র এড. রফিকুল ইসলাম খোকন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ভবসিন্দু রায়, প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুজ্জামান, সহকারী সার্জন ডা. তায়ান ইকবাল প্রমূখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম। উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আক্তাম উদ্দিনের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মোমিন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, সোনাগাজী ছাবের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবদীন ও কৃষক মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দৌলা। মেলায় ১২টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। মেলার স্টলগুলোতে ফলদ, ঔষধী ও বিভিন্ন জাতের চারা গাছের বেচাকেনা প্রদর্শনী সহ বনায়নে উদ্ভুদ্দ করণের প্রামান্য চিত্র উপস্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার মেলা শেষ হবে। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ উপস্থিত শতাধিক ছাত্র ছাত্রী ও কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সুস্বাদু কদবেলের অসাধারণ গুণ

স্বাস্থ্য সময় ডেস্ক : চলছে সুস্বাদু কদবেলের ভরা মৌসুম। বাজারে এর প্রাপ্তিও বেশ। লবণ মরিচের গুড়ায় কদবেল ভর্তার নাম শুনলে সহজেই জিভে জল আসে যে কারো। শক্ত খোলসে আবৃত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ মৌসুমী এ ফল মূলত স্বাদের কথা বিবেচনা করেই খাওয়া হয়। তবে পুষ্টিগুণ বিচারে কদবেল সত্যিই অনন্য। কদবেলের আছে নানা পুষ্টিগুণ। এতে খাদ্যশক্তি রয়েছে কাঁঠাল ও পেঁয়ারার প্রায় সমান। আমিষের পরিমাণ রয়েছে আমের চেয়ে সাড়ে ৩ গুন, কাঁঠালের দ্বিগুন, লিচুর চেয়ে ৩ গুস, আমলকী ও আনারসের চেয়ে ৪ গুন বেশি এবং পেঁপের চেয়ে দ্বিগুনের একটু কম। প্রতি ১০০ গ্রাম কদবেলের পুষ্টিমান পানীয় অংশ ৮৫.৬ গ্রাম, খনিজপদার্থ ২.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৯ কিলোক্যালোরি, আমিষ ৩.৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৮.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫.৯ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৬ মিলি গ্রাম, ভিটামিন-বি ০.৮০ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন-সি ১৩ মিলিগ্রাম। জেনে নিন কদবেলে থাকা এসব উপাদান মানুষের শরীরে কী কী উপকার করতে সক্ষম।
পেটের রোগ নিরাময় : কদবেলে থাকা ট্যানিন নামক উপাদান দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া ও পেট ব্যথা ভালো করে। কদবেল গাছের বাকল মধু সঙ্গে মিশ্রিত করে খেলে পেটের রোগ আমাশয় ভারো করে। কাঁচা কদবেল ছোট এলাচ, মধু দিয়ে মাখিয়ে খেলে বদহজম দূর হয়। এই ফলের নির্যাস কলেরা এবং পাইলসের জন্য প্রতিষেধক ওষুধ হিসাবে কাজ করে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধক : কদবেলের নির্যাস ব্যাপকভাবে ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য আয়ূর্বেদী ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ : কদবেল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্নায়ুর শক্তি যোগায়। ত্বকের জ্বালা পোড়া কমাতে কদবেলের ক্বাথ মলম হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
কিডনি সুরক্ষা : কদবেল উদ্দীপক ও মূত্রবর্ধক কাজে বিশেষ উপাদেয়। এ ফল নিয়মিত খেলে কিডনি সুরক্ষিত রাখে। প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা কিডনি সমস্যা দূর করার জন্য সেরা প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে এটি ব্যবহার করতেন। এ ফল যকৃত ও হৃৎপিণ্ডের জন্যও বিশেষ উপকারী।
পেপটিক আলসার নিরাময়ে : কদবেল পাতার ক্বাথ পানীর সঙ্গে নিয়মিত পান করলে পেপটিক আলসার দ্রুত ভালো হয়। আলসারের খত সারাতে তাজা কদবেল বেশ কার্যকরী।
রূপচর্চায় সহায়ক : ব্র“ণ ও মেছতায় কাঁচা কদবেলের রস মুখে মাখলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
শ্বাসযন্ত্রের রোগ নিরাময় : কদবেল পাতার নির্যাস শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। দুধ এবং চিনি দিয়ে কদবেলের পাতা মিশিয়ে স্নেহপূর্ণ খাদ্য তৈরি হয়। এই রস শিশুদের পেটের ব্যথার চিকিৎসায় চমৎকার কাজ করে। কদবেল যকৃত ও হৃৎপিণ্ডের জন্যও বিশেষ উপকারী।
রক্ত স্বল্পতা রোধ : এই ফল রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। বুক ধড়ফড় এবং রক্তের নিম্নচাপ রোধেও সহায়ক। চিনি বা মিছরির সঙ্গে কদবেল পাউডার মিশিয়ে খেলে সঙ্গে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি হয় এবং রক্তস্বল্পতাও দূর হয়।

অদম্য মেধাবী ফারুক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়

আলী হায়দার মানিক : ফেনী শহরতলীর পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামের এক চা দোকানীর ছেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। অদম্য মেধাবী ইকবাল হোসেন ফারুকের বাবা ইলাশপুর রকমারী মৎস্য খামার সংলগ্ন স্থানে একটি চা দোকান করে। চা দোকান করে পরিবার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ায় হিমশিম খেতে দেখে ফারুকের মা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শুধু তাই নয় তার দুই বোনও ঝি এর কাজ করেন। মা এবং বোন উভয় ঝি এর কাজ করায় বাড়িতে একাই থাকতে হয় ফারুককে। সে রান্না-বান্নসহ যাবতীয় কাজের ফাঁকে নিয়মিত অধ্যয়ন করতো। সাধারনত রান্না-বান্না ও বাড়ির আনুসাঙ্গিক কাজগুলো মহিলারাই করে থাকে। কিন্তু ফারুকের মা ও বোন ঝি এর কাজ করায় সে সব কাজ করতে হতো। যাবতীয় কাজকর্ম করার পরও সে পড়া-লেখার পাশ্বাপাশি প্রাইভেট পাঠানোর জন্য গ্রামে গ্রামে ছুটে চলে। ফারুক জানায়, সে পরিবারের অভাব অনটন দেখে অষ্টম শ্রেণিতে পড়–য়া অবস্থা থেকেই প্রাইভেট পাড়ানো শুরু করে। পরিবারের অভাব অনটনের মধ্যে তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি জিপিএ-৫ পাওয়া। সে অভাব অনটনকে হারমানিয়ে জিপিএ-৫ ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। ফারুক ইলাশপুর গ্রামের মোলকত মেম্বার বাড়ির একরাম হোসেন ও রেজিয়া বেগমের ৫ সন্তানের মধ্যে ৪র্থ। সে পাঁচগাছিয়া এ জেড খাঁন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। ইকবাল হোসেন ফারুক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। সমাজের বৃত্তবানদের দোয়া ও সহযোগিতায় অদম্য মেধাবী ফারুক প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্যের প্রত্যয়  কামনা করেছে। এদিকে ফারুকের পিতা একরাম হোসেন জানান, তাদের কোন রকম জায়গা-জমি নেই। শুধু মাত্র এক থেকে দেড় শতাংশ বসত ভিটা আছে। যেখানো কোন রকম মাথা নোয়ানোর ঠাই হয়।
রকমারী মৎস্য খামারের স্বত্ত্বাধিকারী এডভোকেট আহসান হাবিব সাজু ফেনীর সময় কে জানান, নি:স্ব পরিবার হওয়ায় ফারুকের মা ও বোন তার বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে এবং তার বাবাকে খামারের পাশে একটি চা দোকান করা সুযোগ দেয়।

মানবিক সেলফি উৎসব : কিছু কথা

মো: আবদুস সালাম ###
সেলফি ! বর্তমান সময়ে বিশেষ করে হালের তরুণ-তরুণী থেকে সকল বয়সের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণে অকারণে, বন্ধুত্বের আড্ডা থেকে শুরু করে পথে-ঘাটে, জনপদ কিংবা গহীন অরণ্যেও আমরা সেলফি তুলি। ‘কেএফসি’ কিংবা ‘পাঁচ তারকা’ হোটেলেও ভালো খাবার খেতে খেতে আমরা সেলফি তুলি। অনেক দামি নতুন কেনা রং-বেরং এর পোশাক পরেও আমরা সেলফি তুলি। শীত-গ্রীষ্ম কিংবা বসন্ত সবসময় আমরা সেলফি তুলি, আমাদের আনন্দের, ভালোবাসার, বন্ধুত্বের বন্ধন, প্রিয়জনের সাথে কাটানো ক্ষণিকের সুখের সময়টুকু ধরে রাখতে প্রিয় মানুষদের কে জানাতে। সেলফি কি তাহলে আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে? হয়তো তাই! তাহলে এই সেলফিতে কি সবাই হাসতে পারে? নিজের আনন্দ আর সুখটুকু অন্যের সাথে শেয়ার করতে পারে? ঐ যে প্রচন্ড শীতের রাতে রেলষ্টেশন কিংবা ফুটপাতে কুয়াশা আর হিমহিম বাতাসের মাঝে কোন রকম শীতবস্ত্র ছাড়াই শুয়ে থাকা শিশু, বৃদ্ধা, অসহায় মানুষগুলো, রিক্সাচালক কিংবা খেটে খাওয়া মানুষ গুলো কি সেলফি তুলার মানে বুঝে? বুঝে না। তারা পেট ভরে দু’বেলা ডাল-ভাত খেতে চায়। শীতে কিংবা গ্রীষ্মে একটু বস্ত্র চায়, আশ্রয় চায়। প্রচন্ড ঠান্ডায় একটু উষ্ণতার জন্য শীত বস্ত্রের প্রচন্ড অভাব অনুভব করেন। আমার প্রশ্ন হল, এই অসহায় মানুষগুলো কে বাদ দিয়ে আমাদের খুশির সেলফি তুলা কতটুকুই বা অর্থপূর্ণ। তাহলে কি আমরা সেলফি তুলবো না? হ্যাঁ, আমরা সবাই সেলফি তুলবো। আমাদের সেলফিতে হাসবে সমাজের এই অসহায় মানুষগুলোও। তাই ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুদের কাছে একটি ম্যাসেজ বা আহবান পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাতে সাড়া দিয়ে সারাদেশ থেকে অসংখ্য সুন্দর মনের মানুষ, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশের কলকাতা, মধ্যপাচ্যের কাতার, বাহারাইন থেকেও উটের জকি বা প্রচন্ড গরমে বাংলাদেশী শ্রমিকদের তৃষ্ণা মিটিয়ে হাসিমুখের সেলফি পাঠিয়েছেন অনেকেই? সারা দেশের অনেক স্কুল কলেজের, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক নয় শুধু  অনেক লেখক-কবি, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষও অংশগ্রহন করেছেন, তাদের সেলফি পাঠিয়েছেন। এই সেলফি গুলোকে আমরা নাম দিয়েছি মানবিক সেলফি। আর এই উৎসবের নাম দিয়েছি মানবিক সেলফি উৎসব। কারন, তাঁরা সমাজের এই অসহায় মানুষগুলোর মলিন, ছেঁড়া-ময়লা পোশাক পড়া অসহায় মানুষের মুখে একটু খাবার তুলে দিয়ে ওদের সাথে হাসিমুখে সেলফি তুলেছেন, কেউ কেউ শিশুদের কে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দিয়ে সেলফি তুলেছেন, কেউ প্রচন্ড ঠান্ডায় ঘুমন্ত মানুষগুলোর গায়ে একটি কম্বল বা শীত বস্ত্র জড়িয়ে দিয়েও সেলফি তুলেছেন, কেউ কেউ প্রচন্ড শীতে যখন গরম কপিতে চুমুক দিচ্ছেন তখন পাশের টোকাই ছেলেটা কেও কপি খাইয়ে ওর সাথে হাসিমুখে সেলফি তুলেছেন। আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন অসহায় মাুষগুলোর প্রতি তা চমৎকার একটি দৃষ্টান্ত। আপনারা আপনাদের মানবিক মনের মানবিক সৌন্দর্যটুকু প্রকাশ করেছেন। আমরা আপনাদের মানবিক সনদ দিয়ে সম্মানিত করছি, আসল সম্মান তো নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনাদের দিবেন।  এই মানবিক সেলফি উৎসবে যারা অংশগ্রহন করেছেন তারা প্রমাণ করেছেন, আপনার সবাই সুন্দর মনের মানুষ। আপনারা চাইলেই সমাজের ছিন্নমূল অসহায় মানুষগুলোও ভালো থাকতে পারেন। আপনারা দেখিয়েছেন মানুষকে ভালোবাসার চেয়ে, মানুষের সেবা করার চেয়ে মহৎ কিছু নেই। আপনারা সমাজের অসহায় শিশুদের সাথে, অসহায় নারীদের সাথে, খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর সাথে, মানুষগুলোকে ভালোবেসে, ওদের কে নিজের সাধ্যমত সহযোগিতা দিয়ে, সেবা দিয়ে হাসিমুখে ওদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরে সেলফি তুলেছেন। এই সেলফি বিলাসিতার নয়, অহংকারেরও নয়। এই সেলফি মানবিক সেলফি। এই সেলফি অসহায় মানুষকে ভালোবাসার আপন করে নেওয়ার সেলফি। এই সেলফি আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধনকে সুদৃঢ় করেছে। আপনারা দেখিয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যমেও সমাজের জন্য ভালো ও মহৎ কাজ করা যায়। আজকের এই মানবিক সেলফি উৎসবের সনদ বিতরনী অনুষ্ঠানে আগত সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী, সকল বন্ধু-শুভাকাঙ্খী, দৈনিক ফেনীর সময় পরিবার ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক শ্রদ্ধাভাজন জনাব মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা চাইলেই উদার মন নিয়ে সমাজের অসহায় মানুষগুলোর জন্য আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়েও ভালো কাজ, মহৎ কাজ করতে পারি। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য- শুধু গানে নয়, আমরা সবাই মিলে চাইলেই বাস্তবে তা প্রমান করতে পারি। আমাদের একটু ভালো কাজের বিনিময়ে সমাজের অসহায় মানুষগুলোও ভালো থাকুক, তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠুক বারে বারে। এই হোক আমাদের সকলেরই প্রত্যাশা।

লেখক : মানবিক সেলফি উৎসব সমন্বয়ক।

ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনে ফের সহ-সভাপতি হচ্ছেন বাহার

ক্রীড়া সময় ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন নির্বাচনে সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহার ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী স.ম আরেফিনের নেতৃত্বে ২৪ সদস্যের প্যানেল একক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) ও ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের নির্বাচন কমিশনার দ্বীন মোহাম্মদ এর কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। এসময় বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১৬ আগস্ট প্রত্যাহারের শেষ দিনে চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষনা করা হবে।
প্রসঙ্গত; স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক পদাধিকার বলে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

৬৪ তে পা রাখলেন কবি মনজুর তাজিম

সময় রিপোর্ট : ৬৪ তে পা রাখলেন কবি মনজুর তাজিম। ১৯৫২ সালের ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ায় পিতার কর্মস্থলে জন্মগ্রহন করেন। তার মাতা ফেরদৌস আরা বেগম ও মরহুম পিতা কাজী আহমেদুল হক এর দ্বিতীয় সন্তান। তারা ৪ ভাই ও ৪ বোন। তিনি ছোটকাল থেকে গ্রামের বাড়ী ছাগলনাইয়া উপজেলার হরিগ্রামে তাঁর শৈশব কাটে। তখন থেকে তার লেখালেখির হাতেখড়ি। তিনি ফেনী পাইলট হাই স্কুল থেকে ১৯৭০ সালে ম্যাট্টিক পাশ করে ফেনী সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে নোয়াখালী সরকারী কলেজ থেকে øাতক ডিগ্রী অর্জন করে।
এ যাবতকালে তার অন্তত ১০টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি অব্যাহতভাবে লিখে চলেছেন। কবির সহধর্মীনির নাম বিফলা তাজিম। অপু ও তপু দুই যমজ সন্তানের জনক।

ইন্টারনেটে বোকা হচ্ছে মানুষ !

সময় ডেস্ক : ইন্টারনেটের হাত ধরে মানুষ যখন দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় বেঁধে ফেলেছে, তখন ‘অন্তর্জাল’-এর ব্যবহারের ওপর প্রশ্ন তুললেন বিজ্ঞানীরা৷ নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনের ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী মানুষের পড়াশোনা সংক্রান্ত আচরণের ওপর গবেষণা করতে গিয়ে খুঁজে পেলেন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ তারা জানাচ্ছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে মানুষ দিন দিন বোকা হয়ে যাচ্ছে৷ ইন্টারনেটের বিশাল জগত আমাদের সামনে সীমাহীন তথ্যভাণ্ডার তুলে দিয়েছে। কিন্তু অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় পড়লে মানুষের চেতনা বা বোধশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা৷
ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ভ্যাল হুপার ও তার সহযোগী গবেষক চান্না হেরাথ অনলাইনে পড়াশোনা এবং অফলাইনে (বইপত্র) পড়াশোনার ধরন ও প্রভাব নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এতে দেখা যায়, ইন্টারনেটভিত্তিক পড়াশোনায় মানুষের মনে রাখার সামর্থের ওপর কোনোও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে না। তারা অনেক সময় নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেন।
অন্যদিকে, বই পড়ে মানুষ যে পরিমাণ গভীর মনোযোগ, উপলব্ধি, তথ্যধারণ ও স্মৃতিচারণা করতে পারেন, অনলাইন পড়াশোনায় তা সম্ভব নয়৷ইন্টারনেটে নিবিড় পড়াশোনার পরিবর্তে সাধারণত দ্রুত পড়ার প্রতি আকৃষ্ট হয় মানুষ। আবার ই-মেল, সংবাদ অনুসন্ধান, বিভিন্ন লিঙ্কে ঢুঁ মারা বা ভিডিও ক্লিপস দেখতে গিয়ে অনলাইনে নিবিড় পড়াশোনায় বিঘœ ঘটে৷হুপার বলেন, কম্পিউটারে পড়াশোনা করতে গেলে মনোযোগ অন্যদিকে যাবেই। এটাই প্রত্যাশিত৷
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, মনে রাখার সুবিধার্থে অনেকে ইন্টারনেটের বিভিন্ন বিষয় কাগজে প্রিন্ট করে নিয়ে তারপর পড়েন। এতে তাদের মনোযোগ বেশি থাকে এবং পড়াশোনার সুফলও পুরোপুরি পাওয়া যায়। আর সে কারণেই লোকজন এখনও কাগজে ছাপা অক্ষর পড়তেই বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন৷- ওয়েবসাইট।

August 2016
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
31 1 2 3 4 5 6
7 8 9 10 11 12 13
14 15 16 17 18 19 20
21 22 23 24 25 26 27
28 29 30 31 1 2 3