সর্বশেষ সংবাদ :

    • দৈনিক ফেনীর সময় নতুন ‍আঙ্গিকে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে....

আজ ১৫ শ্রাবন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ | |

মহিপালে ফ্লাইওভার পরিদর্শনকালে ওবায়দুল কাদের ১ আগস্ট থেকে ফেনীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু

স্টাফ রিপোর্টার : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি জামায়াত ছাড়ার যে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে তা বিএনপির সাময়িক কৌশলমাত্র। জামায়াত বিএনপি একই সূত্রে গাঁথা। আদর্শগতভাবে তারা খুব কাছাকাছি। তারা এদেশের রাজনীতির একই মেরুতে অবস্থান করে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মহিপালে ৬ লেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের পরিদশর্নকালে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রি বলেন, ২০১৯ সালে নির্ধারিত সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তার তিন মাস আগে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হবে। দলের কার্যনির্বাহী সভায় প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্ট সদস্যদেরকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।
এদিকে জঙ্গীবাদের ইন্দনদাতাদের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আছে। শিগগিরই তা উম্মোচিত হবে।
ফেনীতে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আগামী তিন দিনের মধ্যে খাল ও জলমহলের উপর সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে মাইকিং ও ১ আগস্ট থেকে উচ্ছেদ করা হবে। পুলিশ সুপার মো: রেজাউল হক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবুল হাসেমকে এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে তারা ব্যর্থ হলে তিনি নিজে থেকে এ সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন। মন্ত্রীর সাথে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ফ্লাইওভার নির্মানে যুক্ত সেনাবাহীনির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেনীতে ইফার মাজার খানকা প্রতিনিধি সম্মেলন

শহর প্রতিনিধি : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফেনী শহরের ড. সেলিম আল দীন মিলনায়তনে মাজার খানকা প্রতিনিধি সম্মেলন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক আজিজ আহম্মদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুর রউফ। ফাউন্ডেশনের ফেনী জেলা কার্যালযের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিছের সভাপতিত্বে ও ফিল্ড সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমির হোসেনের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজ আহম্মদ চৌধুরী বলেন, যারা প্রকৃত ইসলাম বুঝে না, কুরআন-হাদীস বুঝে না তারাই জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী। তিনি ইসলাম নির্দেশিত পথে জীবন-যাপন করার আহবান জানান।

যাকাত বিতরণ অনুষ্ঠানে রহমান বি.কম বন্ধুর বন্ধন অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত

স্টাফ রিপোর্টার : ফেনীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন বন্ধুর বন্ধন জনহিতকর কর্মকান্ডে অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবদুর রহমান বি.কম। তিনি বলেন, এ সংগঠনটি প্রায় একযুগ ধরে ফেনীতে অসহায়-বঞ্ছিত মানুষের সাহায্য-সহায়তা ছাড়াও নানা জনহিতকর কর্মকান্ড করে আসছে। শুধু ফেনীতে নয়, এতদঞ্চলেও এ ধরনের সামাজিক সংগঠন বিরল। তিনি সংগঠনটির উত্তরোত্তর অগ্রযাত্রা কামনা করে বলেন, সবসময়ই তাদের কর্মকান্ডে পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।
গতকাল শুক্রবার বিকালে শহরের ডক্টরস্ রিক্রিয়েশন ক্লাবে বন্ধুর বন্ধনের ১১তম যাকাত বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। যাকাত কমিটির আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জি.এম তাজ উদ্দিন পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি আইনুল কবির শামীম ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। প্রধান আলোচক ছিলেন বন্ধুর বন্ধনের সভাপতি শেখ ফেরদৌস আনোয়ার মজনু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফেনী সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি এ.এস.এম নুর করিম। আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক নাজমুল করিম ভূঞা সুমন, জালাল উদ্দিন বাবলু ও সাখাওয়াত পারভেজ ভূঞা, সংগঠক সাইফুল ইসলাম ফটিক, হাজী দেলোয়ার হোসেন মিলন, সেফায়েত উল্যাহ, আনিছুর রহমান, এড. এম সাইফুল আলম, পরশুরাম পৌর কমিটির আহবায়ক ইয়াছিন শরীফ মজুমদার, সোনাগাজীর সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন খাঁন, ঢাকা মহানগর দক্ষিন সভাপতি আ.জ.ম নাসির, ফেনী পৌর কমিটির সভাপতি এম.মামুনুর রশিদ, সাপ্তাহিক স্বদেশপত্র সম্পাদক এন.এন জীবন, সাপ্তাহিক কলকন্ঠ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক রেজা, সদর কমিটির সহ-সভাপতি শাহ কামরুজ্জামান ভূঞা ও শেখ সাদী চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে হতদরিদ্রদের মাঝে ৩০টি সেলাই মেশিন, ৯ বান্ডিল ঢেউটিন, ২টি হুইল চেয়ার, ২টি রিক্সা, ২টি টিউবওয়েল, ১৩ জন ব্যক্তিকে নগদ ৬৭ হাজার টাকা ও ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নগদ ৪৩ হাজার টাকা যাকাত প্রদান করা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনুল কবির শামীম বলেন, যখন যুব সমাজ বিপথগামী সমাজে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে ঠিক তখন বন্ধুর বন্ধনের এমন আয়োজনে আমি মুগ্ধ। তিনি বলেন, সমাজে অসহায়-বঞ্ছিতদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায়ও বন্ধুর বন্ধন ভূমিকা রাখবে।
দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে সামাজিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফেনীতে প্রায় ১ যুগ ধরে এ কাজটি করে বন্ধুর বন্ধন সবমহলে সুনাম অর্জন করেছে। তিনি এ সংগঠনের আরো সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সোনাগাজীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে পুলিশের মতবিনিময়

সোনাগাজী প্রতিনিধি : সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার সকালে থানা কম্পাউন্ডে উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও মন্দিরের সভাপতি-সম্পাদক সহ সেবাহি পুরোহিতদের সাথে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও নাশকতা প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো: হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো: আমিরুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সোনাগাজী পৌর মেয়র এড. রফিকুল ইসলাম খোকন, এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চরণ ভৌমিক, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছায়েদুল হক প্রমুখ। এসআই শাহ আলমের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি যতিশ চন্দ্র বড়ুয়া, উপজেলা পুজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জগদিশ চন্দ্র শীল, সাধারণ সম্পাদক সমর দাস প্রমুখ।

সুস্বাদু কদবেলের অসাধারণ গুণ

স্বাস্থ্য সময় ডেস্ক : চলছে সুস্বাদু কদবেলের ভরা মৌসুম। বাজারে এর প্রাপ্তিও বেশ। লবণ মরিচের গুড়ায় কদবেল ভর্তার নাম শুনলে সহজেই জিভে জল আসে যে কারো। শক্ত খোলসে আবৃত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ মৌসুমী এ ফল মূলত স্বাদের কথা বিবেচনা করেই খাওয়া হয়। তবে পুষ্টিগুণ বিচারে কদবেল সত্যিই অনন্য। কদবেলের আছে নানা পুষ্টিগুণ। এতে খাদ্যশক্তি রয়েছে কাঁঠাল ও পেঁয়ারার প্রায় সমান। আমিষের পরিমাণ রয়েছে আমের চেয়ে সাড়ে ৩ গুন, কাঁঠালের দ্বিগুন, লিচুর চেয়ে ৩ গুস, আমলকী ও আনারসের চেয়ে ৪ গুন বেশি এবং পেঁপের চেয়ে দ্বিগুনের একটু কম। প্রতি ১০০ গ্রাম কদবেলের পুষ্টিমান পানীয় অংশ ৮৫.৬ গ্রাম, খনিজপদার্থ ২.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৯ কিলোক্যালোরি, আমিষ ৩.৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৮.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫.৯ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৬ মিলি গ্রাম, ভিটামিন-বি ০.৮০ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন-সি ১৩ মিলিগ্রাম। জেনে নিন কদবেলে থাকা এসব উপাদান মানুষের শরীরে কী কী উপকার করতে সক্ষম।
পেটের রোগ নিরাময় : কদবেলে থাকা ট্যানিন নামক উপাদান দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া ও পেট ব্যথা ভালো করে। কদবেল গাছের বাকল মধু সঙ্গে মিশ্রিত করে খেলে পেটের রোগ আমাশয় ভারো করে। কাঁচা কদবেল ছোট এলাচ, মধু দিয়ে মাখিয়ে খেলে বদহজম দূর হয়। এই ফলের নির্যাস কলেরা এবং পাইলসের জন্য প্রতিষেধক ওষুধ হিসাবে কাজ করে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধক : কদবেলের নির্যাস ব্যাপকভাবে ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য আয়ূর্বেদী ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ : কদবেল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্নায়ুর শক্তি যোগায়। ত্বকের জ্বালা পোড়া কমাতে কদবেলের ক্বাথ মলম হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
কিডনি সুরক্ষা : কদবেল উদ্দীপক ও মূত্রবর্ধক কাজে বিশেষ উপাদেয়। এ ফল নিয়মিত খেলে কিডনি সুরক্ষিত রাখে। প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা কিডনি সমস্যা দূর করার জন্য সেরা প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে এটি ব্যবহার করতেন। এ ফল যকৃত ও হৃৎপিণ্ডের জন্যও বিশেষ উপকারী।
পেপটিক আলসার নিরাময়ে : কদবেল পাতার ক্বাথ পানীর সঙ্গে নিয়মিত পান করলে পেপটিক আলসার দ্রুত ভালো হয়। আলসারের খত সারাতে তাজা কদবেল বেশ কার্যকরী।
রূপচর্চায় সহায়ক : ব্র“ণ ও মেছতায় কাঁচা কদবেলের রস মুখে মাখলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
শ্বাসযন্ত্রের রোগ নিরাময় : কদবেল পাতার নির্যাস শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। দুধ এবং চিনি দিয়ে কদবেলের পাতা মিশিয়ে স্নেহপূর্ণ খাদ্য তৈরি হয়। এই রস শিশুদের পেটের ব্যথার চিকিৎসায় চমৎকার কাজ করে। কদবেল যকৃত ও হৃৎপিণ্ডের জন্যও বিশেষ উপকারী।
রক্ত স্বল্পতা রোধ : এই ফল রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। বুক ধড়ফড় এবং রক্তের নিম্নচাপ রোধেও সহায়ক। চিনি বা মিছরির সঙ্গে কদবেল পাউডার মিশিয়ে খেলে সঙ্গে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি হয় এবং রক্তস্বল্পতাও দূর হয়।

অদম্য মেধাবী ফারুক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়

আলী হায়দার মানিক : ফেনী শহরতলীর পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামের এক চা দোকানীর ছেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। অদম্য মেধাবী ইকবাল হোসেন ফারুকের বাবা ইলাশপুর রকমারী মৎস্য খামার সংলগ্ন স্থানে একটি চা দোকান করে। চা দোকান করে পরিবার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ায় হিমশিম খেতে দেখে ফারুকের মা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শুধু তাই নয় তার দুই বোনও ঝি এর কাজ করেন। মা এবং বোন উভয় ঝি এর কাজ করায় বাড়িতে একাই থাকতে হয় ফারুককে। সে রান্না-বান্নসহ যাবতীয় কাজের ফাঁকে নিয়মিত অধ্যয়ন করতো। সাধারনত রান্না-বান্না ও বাড়ির আনুসাঙ্গিক কাজগুলো মহিলারাই করে থাকে। কিন্তু ফারুকের মা ও বোন ঝি এর কাজ করায় সে সব কাজ করতে হতো। যাবতীয় কাজকর্ম করার পরও সে পড়া-লেখার পাশ্বাপাশি প্রাইভেট পাঠানোর জন্য গ্রামে গ্রামে ছুটে চলে। ফারুক জানায়, সে পরিবারের অভাব অনটন দেখে অষ্টম শ্রেণিতে পড়–য়া অবস্থা থেকেই প্রাইভেট পাড়ানো শুরু করে। পরিবারের অভাব অনটনের মধ্যে তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি জিপিএ-৫ পাওয়া। সে অভাব অনটনকে হারমানিয়ে জিপিএ-৫ ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। ফারুক ইলাশপুর গ্রামের মোলকত মেম্বার বাড়ির একরাম হোসেন ও রেজিয়া বেগমের ৫ সন্তানের মধ্যে ৪র্থ। সে পাঁচগাছিয়া এ জেড খাঁন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। ইকবাল হোসেন ফারুক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। সমাজের বৃত্তবানদের দোয়া ও সহযোগিতায় অদম্য মেধাবী ফারুক প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্যের প্রত্যয়  কামনা করেছে। এদিকে ফারুকের পিতা একরাম হোসেন জানান, তাদের কোন রকম জায়গা-জমি নেই। শুধু মাত্র এক থেকে দেড় শতাংশ বসত ভিটা আছে। যেখানো কোন রকম মাথা নোয়ানোর ঠাই হয়।
রকমারী মৎস্য খামারের স্বত্ত্বাধিকারী এডভোকেট আহসান হাবিব সাজু ফেনীর সময় কে জানান, নি:স্ব পরিবার হওয়ায় ফারুকের মা ও বোন তার বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে এবং তার বাবাকে খামারের পাশে একটি চা দোকান করা সুযোগ দেয়।

মানবিক সেলফি উৎসব : কিছু কথা

মো: আবদুস সালাম ###
সেলফি ! বর্তমান সময়ে বিশেষ করে হালের তরুণ-তরুণী থেকে সকল বয়সের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণে অকারণে, বন্ধুত্বের আড্ডা থেকে শুরু করে পথে-ঘাটে, জনপদ কিংবা গহীন অরণ্যেও আমরা সেলফি তুলি। ‘কেএফসি’ কিংবা ‘পাঁচ তারকা’ হোটেলেও ভালো খাবার খেতে খেতে আমরা সেলফি তুলি। অনেক দামি নতুন কেনা রং-বেরং এর পোশাক পরেও আমরা সেলফি তুলি। শীত-গ্রীষ্ম কিংবা বসন্ত সবসময় আমরা সেলফি তুলি, আমাদের আনন্দের, ভালোবাসার, বন্ধুত্বের বন্ধন, প্রিয়জনের সাথে কাটানো ক্ষণিকের সুখের সময়টুকু ধরে রাখতে প্রিয় মানুষদের কে জানাতে। সেলফি কি তাহলে আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে? হয়তো তাই! তাহলে এই সেলফিতে কি সবাই হাসতে পারে? নিজের আনন্দ আর সুখটুকু অন্যের সাথে শেয়ার করতে পারে? ঐ যে প্রচন্ড শীতের রাতে রেলষ্টেশন কিংবা ফুটপাতে কুয়াশা আর হিমহিম বাতাসের মাঝে কোন রকম শীতবস্ত্র ছাড়াই শুয়ে থাকা শিশু, বৃদ্ধা, অসহায় মানুষগুলো, রিক্সাচালক কিংবা খেটে খাওয়া মানুষ গুলো কি সেলফি তুলার মানে বুঝে? বুঝে না। তারা পেট ভরে দু’বেলা ডাল-ভাত খেতে চায়। শীতে কিংবা গ্রীষ্মে একটু বস্ত্র চায়, আশ্রয় চায়। প্রচন্ড ঠান্ডায় একটু উষ্ণতার জন্য শীত বস্ত্রের প্রচন্ড অভাব অনুভব করেন। আমার প্রশ্ন হল, এই অসহায় মানুষগুলো কে বাদ দিয়ে আমাদের খুশির সেলফি তুলা কতটুকুই বা অর্থপূর্ণ। তাহলে কি আমরা সেলফি তুলবো না? হ্যাঁ, আমরা সবাই সেলফি তুলবো। আমাদের সেলফিতে হাসবে সমাজের এই অসহায় মানুষগুলোও। তাই ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুদের কাছে একটি ম্যাসেজ বা আহবান পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাতে সাড়া দিয়ে সারাদেশ থেকে অসংখ্য সুন্দর মনের মানুষ, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশের কলকাতা, মধ্যপাচ্যের কাতার, বাহারাইন থেকেও উটের জকি বা প্রচন্ড গরমে বাংলাদেশী শ্রমিকদের তৃষ্ণা মিটিয়ে হাসিমুখের সেলফি পাঠিয়েছেন অনেকেই? সারা দেশের অনেক স্কুল কলেজের, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক নয় শুধু  অনেক লেখক-কবি, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষও অংশগ্রহন করেছেন, তাদের সেলফি পাঠিয়েছেন। এই সেলফি গুলোকে আমরা নাম দিয়েছি মানবিক সেলফি। আর এই উৎসবের নাম দিয়েছি মানবিক সেলফি উৎসব। কারন, তাঁরা সমাজের এই অসহায় মানুষগুলোর মলিন, ছেঁড়া-ময়লা পোশাক পড়া অসহায় মানুষের মুখে একটু খাবার তুলে দিয়ে ওদের সাথে হাসিমুখে সেলফি তুলেছেন, কেউ কেউ শিশুদের কে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দিয়ে সেলফি তুলেছেন, কেউ প্রচন্ড ঠান্ডায় ঘুমন্ত মানুষগুলোর গায়ে একটি কম্বল বা শীত বস্ত্র জড়িয়ে দিয়েও সেলফি তুলেছেন, কেউ কেউ প্রচন্ড শীতে যখন গরম কপিতে চুমুক দিচ্ছেন তখন পাশের টোকাই ছেলেটা কেও কপি খাইয়ে ওর সাথে হাসিমুখে সেলফি তুলেছেন। আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন অসহায় মাুষগুলোর প্রতি তা চমৎকার একটি দৃষ্টান্ত। আপনারা আপনাদের মানবিক মনের মানবিক সৌন্দর্যটুকু প্রকাশ করেছেন। আমরা আপনাদের মানবিক সনদ দিয়ে সম্মানিত করছি, আসল সম্মান তো নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনাদের দিবেন।  এই মানবিক সেলফি উৎসবে যারা অংশগ্রহন করেছেন তারা প্রমাণ করেছেন, আপনার সবাই সুন্দর মনের মানুষ। আপনারা চাইলেই সমাজের ছিন্নমূল অসহায় মানুষগুলোও ভালো থাকতে পারেন। আপনারা দেখিয়েছেন মানুষকে ভালোবাসার চেয়ে, মানুষের সেবা করার চেয়ে মহৎ কিছু নেই। আপনারা সমাজের অসহায় শিশুদের সাথে, অসহায় নারীদের সাথে, খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর সাথে, মানুষগুলোকে ভালোবেসে, ওদের কে নিজের সাধ্যমত সহযোগিতা দিয়ে, সেবা দিয়ে হাসিমুখে ওদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরে সেলফি তুলেছেন। এই সেলফি বিলাসিতার নয়, অহংকারেরও নয়। এই সেলফি মানবিক সেলফি। এই সেলফি অসহায় মানুষকে ভালোবাসার আপন করে নেওয়ার সেলফি। এই সেলফি আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধনকে সুদৃঢ় করেছে। আপনারা দেখিয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যমেও সমাজের জন্য ভালো ও মহৎ কাজ করা যায়। আজকের এই মানবিক সেলফি উৎসবের সনদ বিতরনী অনুষ্ঠানে আগত সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী, সকল বন্ধু-শুভাকাঙ্খী, দৈনিক ফেনীর সময় পরিবার ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক শ্রদ্ধাভাজন জনাব মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা চাইলেই উদার মন নিয়ে সমাজের অসহায় মানুষগুলোর জন্য আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়েও ভালো কাজ, মহৎ কাজ করতে পারি। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য- শুধু গানে নয়, আমরা সবাই মিলে চাইলেই বাস্তবে তা প্রমান করতে পারি। আমাদের একটু ভালো কাজের বিনিময়ে সমাজের অসহায় মানুষগুলোও ভালো থাকুক, তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠুক বারে বারে। এই হোক আমাদের সকলেরই প্রত্যাশা।

লেখক : মানবিক সেলফি উৎসব সমন্বয়ক।

ব্রাদার্সকে রুখে দিলো ফেনী সকার

ক্রীড়া সময় ডেস্ক : এগিয়ে গিয়েও জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি ফেনী সকার। প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে তারা। আর পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট দলের খেলোয়াড়রা।
চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে গতকাল মঙ্গলবার ১-১ ড্র ম্যাচে দুটি গোলই হয় প্রথমার্ধে। সুশান্ত ত্রিপুরার গোলে এগিয়ে যায় ফেনী। ব্রাদার্সকে সমতায় ফেরা গোল এনে দেন অগাস্টিন ওয়ালসন। চতুর্থ মিনিট বুদ্ধিদ্বীপ্ত গোল করে অষ্টম স্থানে থেকে গত লিগ শেষ করা ফেনীকে এগিয়ে নেন সুশান্ত। সতীর্থেও বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আগোয়ান গোলরক্ষক উত্তম বড়ুয়ার মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দেন এই মিডফিল্ডার। উত্তম শেষ মুহূর্তে ফিস্ট করার চেষ্টা করেও বল ফেরাতে পারেননি।
পিছিয়ে পড়া ব্রাদার্স সমতায় ফেরে ২৬তম মিনিটে। ইবায়েদ হোসেন কোমলের তৈরি করে দেওয়া সুযোগ কাজে লাগান ওয়ালসন। বাঁ দিক থেকে আক্রমণে যাওয়া হাইতির এই ফরোয়ার্ডকে আটকাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এলেও ব্যর্থ হন ফেনী গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের ফরোয়ার্ডরা লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলে সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।

৬৪ তে পা রাখলেন কবি মনজুর তাজিম

সময় রিপোর্ট : ৬৪ তে পা রাখলেন কবি মনজুর তাজিম। ১৯৫২ সালের ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ায় পিতার কর্মস্থলে জন্মগ্রহন করেন। তার মাতা ফেরদৌস আরা বেগম ও মরহুম পিতা কাজী আহমেদুল হক এর দ্বিতীয় সন্তান। তারা ৪ ভাই ও ৪ বোন। তিনি ছোটকাল থেকে গ্রামের বাড়ী ছাগলনাইয়া উপজেলার হরিগ্রামে তাঁর শৈশব কাটে। তখন থেকে তার লেখালেখির হাতেখড়ি। তিনি ফেনী পাইলট হাই স্কুল থেকে ১৯৭০ সালে ম্যাট্টিক পাশ করে ফেনী সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে নোয়াখালী সরকারী কলেজ থেকে øাতক ডিগ্রী অর্জন করে।
এ যাবতকালে তার অন্তত ১০টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি অব্যাহতভাবে লিখে চলেছেন। কবির সহধর্মীনির নাম বিফলা তাজিম। অপু ও তপু দুই যমজ সন্তানের জনক।

ইন্টারনেটে বোকা হচ্ছে মানুষ !

সময় ডেস্ক : ইন্টারনেটের হাত ধরে মানুষ যখন দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় বেঁধে ফেলেছে, তখন ‘অন্তর্জাল’-এর ব্যবহারের ওপর প্রশ্ন তুললেন বিজ্ঞানীরা৷ নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনের ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী মানুষের পড়াশোনা সংক্রান্ত আচরণের ওপর গবেষণা করতে গিয়ে খুঁজে পেলেন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ তারা জানাচ্ছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে মানুষ দিন দিন বোকা হয়ে যাচ্ছে৷ ইন্টারনেটের বিশাল জগত আমাদের সামনে সীমাহীন তথ্যভাণ্ডার তুলে দিয়েছে। কিন্তু অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় পড়লে মানুষের চেতনা বা বোধশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা৷
ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ভ্যাল হুপার ও তার সহযোগী গবেষক চান্না হেরাথ অনলাইনে পড়াশোনা এবং অফলাইনে (বইপত্র) পড়াশোনার ধরন ও প্রভাব নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এতে দেখা যায়, ইন্টারনেটভিত্তিক পড়াশোনায় মানুষের মনে রাখার সামর্থের ওপর কোনোও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে না। তারা অনেক সময় নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেন।
অন্যদিকে, বই পড়ে মানুষ যে পরিমাণ গভীর মনোযোগ, উপলব্ধি, তথ্যধারণ ও স্মৃতিচারণা করতে পারেন, অনলাইন পড়াশোনায় তা সম্ভব নয়৷ইন্টারনেটে নিবিড় পড়াশোনার পরিবর্তে সাধারণত দ্রুত পড়ার প্রতি আকৃষ্ট হয় মানুষ। আবার ই-মেল, সংবাদ অনুসন্ধান, বিভিন্ন লিঙ্কে ঢুঁ মারা বা ভিডিও ক্লিপস দেখতে গিয়ে অনলাইনে নিবিড় পড়াশোনায় বিঘœ ঘটে৷হুপার বলেন, কম্পিউটারে পড়াশোনা করতে গেলে মনোযোগ অন্যদিকে যাবেই। এটাই প্রত্যাশিত৷
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, মনে রাখার সুবিধার্থে অনেকে ইন্টারনেটের বিভিন্ন বিষয় কাগজে প্রিন্ট করে নিয়ে তারপর পড়েন। এতে তাদের মনোযোগ বেশি থাকে এবং পড়াশোনার সুফলও পুরোপুরি পাওয়া যায়। আর সে কারণেই লোকজন এখনও কাগজে ছাপা অক্ষর পড়তেই বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন৷- ওয়েবসাইট।

July 2016
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
26 27 28 29 30 1 2
3 4 5 6 7 8 9
10 11 12 13 14 15 16
17 18 19 20 21 22 23
24 25 26 27 28 29 30
31 1 2 3 4 5 6