সর্বশেষ সংবাদ :

    • দৈনিক ফেনীর সময় নতুন ‍আঙ্গিকে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে....

আজ ১৭ বৈশাখ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ | |

ফেনীতে সেমিনারে তথ্য সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার তথ্য প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে দেশ মধ্যম আয়ে উন্নীত হবে

রাসেল চৌধুরী : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেছেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বিশ্বের কোথাও নেই। তথ্য প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবো। দেশের ১৮ হাজার ১শ ৩০টি অফিসকে তথ্য প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। দেশের ৪০টি আইটি কোম্পানী আইএসও সনদ পেয়েছে। সরকার ৫৫ হাজার মানুষকে আইটির উপর প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যে ২০ হাজার নারীকে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ১০ লাখ মানুষ আইটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তারমধ্যে ৪ লাখ আউট সোর্সিং করছে। ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি সেক্টরে ১০ লাখ মানুষকে কর্মসংস্থান দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ : দ্যা নেক্সট আইসিটি ডেসটিনেশান’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মো: আমিন উল আহসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অংশ নেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আবু দাউদ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবুল হাশেম, দৈনিক আমার কাগজ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফজলুল হক রানা সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক, উদ্যোক্তা, প্রোগ্রামার, ফ্রি ল্যান্সার প্রমুখ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ এনামুল হক সেমিনার পরিচালনা করেন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রকল্প পরিচালক আবুল কাশেম। দিনব্যাপী সেমিনারে প্রশিক্ষন প্রদান করেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সাদ আমিন, জুয়েল ফরাজী, তৌহিদ হোসাইন।
আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার আরও বলেন, সারাদেশে ২ হাজার কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ল্যাবে ১৭টি করে কম্পিউটার রয়েছে। পাবনার একজন উদ্যোক্তা প্রতি মাসে গড়ে ১লাখ ৩৮ হাজার টাকা আয় করছে। গুগল ও ফেসবুকে এদেশের ছেলেরা কাজ করছে। ২৫ হাজার ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ডিজিটাল ভারত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

চাকুরী জাতীয়করণের দাবিতে ফেনী পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন

শহর প্রতিনিধি : চাকুরী জাতীয়করণ ও পেনশন ভাতা চালুর দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার ফেনী পৌরসভা চত্বরে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের উদ্যোগে এক মানববন্ধন করা হয়। ফেনী পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মো: আজিজুল হকের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অংশ নেন প্যানেল মেয়র আশ্রাফুল আলম গিটার, পৌর সচিব লোকমান হোসেন ভূঁঞা, সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিন, পৌর মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সৈয়দ নজমুদ্দিন আহমেদ, পৌর কর্মচারী সংসদের সভাপতি শামছুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম হাজারী রুপক প্রমুখ। মানববন্ধন পরিচালনা করেন পৌর কর্মচারী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত কুমার আচার্য্য।
মানববন্ধনে বক্তারা দেশের প্রতিটি পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণ ও পেনশন ভাতা চালুর জোর দাবি জানান।

ডি.এম একরামসহ শিক্ষক নেতাদের সংবাদ সম্মেলন দখলদার কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী

স্টাফ রিপোর্টার : ডি. এম একরামুল হকসহ শিক্ষকদের নেতারা অভিযোগ করেন, হাবিবুর রহমান ও মোসাদ্দেক আলীরা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অবৈধ দখলদার কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিধি অনুসারে ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সমিতির গঠনতন্ত্রের সকল নিয়মাবলী মান্য করে রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক কমিটির  সভাপতি ডি এম একরামুল হক ও সাধারন সম্পাদক আলী হায়দারসহ ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি কেন্দ্রীয় পরিষদ অনুমোদন দেয়। ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর আমিনুল ইসলাম ও ইসমাইল হোসেন সিরাজী নামের ২ জন শিক্ষক আদালতে প্রত্যক্ষ ভোটের পরিবর্তে বিষয় কমিটির মাধ্যমে কমিটি গঠনের আদেশ চেয়ে মামলার প্রেক্ষিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপির হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্রের ধারা মোতাবেক কমিটি পূন:গঠন করা যাইতে পারে মর্মে বাদী সোলেনামা মূলে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে মোসাদ্দেক আলী নিজাম উদ্দিন হাজারীর নিকট আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ২০১৫ সালে ২৮ ফেব্র“য়ারি অবৈধ কমিটি গঠন করে। অবৈধ কমিটি গঠন হওয়ার পরও ২০১৫ সালের ১৫ জুন  কেন্দ্রীয় সমিতি ডি এম একরামুল হক ও আলী হায়দারসহ ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি বৈধ বলে গণ্য হয়।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, মোসাদ্দেক আলী অবৈধ কমিটি করে সমিতির প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাত করে। ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ডি এম একরামুল হকের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দখলদার কমিটির সকল প্রকার ব্যাংক লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জনতা ব্যাংক কর্পোরেট শাখায় কার্যবিবরণী দাখিল করে লেনদেন স্থগিত করা হয়।
তিনি বলেন, অবৈধ কমিটি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের যাবতীয় আদেশ লঙ্ঘন করে সমিতির সুনাম নষ্ট করতে সিলেবাস পূর্বের তুলনায় ১০ গুণ বেশী দামে বিক্রি করছে। নিয়ম বর্হিভূতভাবে মোসাদ্দেক আলীর নাম দিয়ে ইংরেজী বই ছাপিয়ে জোরজবরদস্তি করে বিভিন্ন স্কুলে বই বিক্রি এবং কতিপয় প্রকাশনী থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে অনুমোদনহীন বই পড়তে ছাত্রছাত্রীদের বাধ্য করা হয়েছে। ভূলে ভরা প্রশ্ন দিয়ে যেমন সমিতির ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন করা হচ্ছে তেমনি শিক্ষার্থীরা হিমশিম খাচ্ছে। সম্প্রতি নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপির নামে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ৭ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে ভূল প্রশ্ন করে সংসদ সদস্যকে বিতর্কিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ফেনীর শিক্ষা ব্যবস্থাকেও দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফাজিলপুর কাদরি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন আর রশিদ ভূঞা, জিন্নাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শাহ আলম, ছনুয়া-ফাজিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম, পাঁচগাছিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন, মধুয়াই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, চাঁনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক মশিউর রহমান প্রমুখ।

ফেনীতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সম্মেলন ও আলোচনা সভা

শহর প্রতিনিধি : ফেনীতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীর জনক ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের ২৬০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চিকিৎসক সম্মেলন ও আলোচনা সভা গতকাল শুক্রবার দুপুরে শহরের সেন্ট্রাল হাই স্কুল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিষদ ফেনী জেলা শাখার আয়োজনে জেলা শাখার সভাপতি ডা: কামদেব নাথের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিষদ ফেনী জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ডা: ছরওয়ার আলম, ডা: রুহুল আমিন মুন্সি, ডা: বজেন্দ্র পাল, ডা: আবদুল মান্নান, লে: (অব:) জেনারেল নেপাল চন্দ্র নাথ, ফাজিলপুর কাদিরী হাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরন চন্দ্র, ডা: বিকাশ চন্দ্র দাস সহ জেলা ও উপজেলার হোমিও চিকিৎসকগণ ও আমন্ত্রিত অতিথিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সুস্বাদু কদবেলের অসাধারণ গুণ

স্বাস্থ্য সময় ডেস্ক : চলছে সুস্বাদু কদবেলের ভরা মৌসুম। বাজারে এর প্রাপ্তিও বেশ। লবণ মরিচের গুড়ায় কদবেল ভর্তার নাম শুনলে সহজেই জিভে জল আসে যে কারো। শক্ত খোলসে আবৃত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ মৌসুমী এ ফল মূলত স্বাদের কথা বিবেচনা করেই খাওয়া হয়। তবে পুষ্টিগুণ বিচারে কদবেল সত্যিই অনন্য। কদবেলের আছে নানা পুষ্টিগুণ। এতে খাদ্যশক্তি রয়েছে কাঁঠাল ও পেঁয়ারার প্রায় সমান। আমিষের পরিমাণ রয়েছে আমের চেয়ে সাড়ে ৩ গুন, কাঁঠালের দ্বিগুন, লিচুর চেয়ে ৩ গুস, আমলকী ও আনারসের চেয়ে ৪ গুন বেশি এবং পেঁপের চেয়ে দ্বিগুনের একটু কম। প্রতি ১০০ গ্রাম কদবেলের পুষ্টিমান পানীয় অংশ ৮৫.৬ গ্রাম, খনিজপদার্থ ২.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৯ কিলোক্যালোরি, আমিষ ৩.৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৮.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫.৯ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৬ মিলি গ্রাম, ভিটামিন-বি ০.৮০ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন-সি ১৩ মিলিগ্রাম। জেনে নিন কদবেলে থাকা এসব উপাদান মানুষের শরীরে কী কী উপকার করতে সক্ষম।
পেটের রোগ নিরাময় : কদবেলে থাকা ট্যানিন নামক উপাদান দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া ও পেট ব্যথা ভালো করে। কদবেল গাছের বাকল মধু সঙ্গে মিশ্রিত করে খেলে পেটের রোগ আমাশয় ভারো করে। কাঁচা কদবেল ছোট এলাচ, মধু দিয়ে মাখিয়ে খেলে বদহজম দূর হয়। এই ফলের নির্যাস কলেরা এবং পাইলসের জন্য প্রতিষেধক ওষুধ হিসাবে কাজ করে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধক : কদবেলের নির্যাস ব্যাপকভাবে ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য আয়ূর্বেদী ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ : কদবেল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্নায়ুর শক্তি যোগায়। ত্বকের জ্বালা পোড়া কমাতে কদবেলের ক্বাথ মলম হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
কিডনি সুরক্ষা : কদবেল উদ্দীপক ও মূত্রবর্ধক কাজে বিশেষ উপাদেয়। এ ফল নিয়মিত খেলে কিডনি সুরক্ষিত রাখে। প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা কিডনি সমস্যা দূর করার জন্য সেরা প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে এটি ব্যবহার করতেন। এ ফল যকৃত ও হৃৎপিণ্ডের জন্যও বিশেষ উপকারী।
পেপটিক আলসার নিরাময়ে : কদবেল পাতার ক্বাথ পানীর সঙ্গে নিয়মিত পান করলে পেপটিক আলসার দ্রুত ভালো হয়। আলসারের খত সারাতে তাজা কদবেল বেশ কার্যকরী।
রূপচর্চায় সহায়ক : ব্র“ণ ও মেছতায় কাঁচা কদবেলের রস মুখে মাখলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
শ্বাসযন্ত্রের রোগ নিরাময় : কদবেল পাতার নির্যাস শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। দুধ এবং চিনি দিয়ে কদবেলের পাতা মিশিয়ে স্নেহপূর্ণ খাদ্য তৈরি হয়। এই রস শিশুদের পেটের ব্যথার চিকিৎসায় চমৎকার কাজ করে। কদবেল যকৃত ও হৃৎপিণ্ডের জন্যও বিশেষ উপকারী।
রক্ত স্বল্পতা রোধ : এই ফল রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। বুক ধড়ফড় এবং রক্তের নিম্নচাপ রোধেও সহায়ক। চিনি বা মিছরির সঙ্গে কদবেল পাউডার মিশিয়ে খেলে সঙ্গে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি হয় এবং রক্তস্বল্পতাও দূর হয়।

তনু হত্যা ও আমাদের রাষ্ট্র!

ইমরান মাহফুজ ###
কুমিল্লা সেনানীবাসের ভেতরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। সোহাগী জাহান তনু (১৯)। তিনি ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী এবং একই কলেজের নাট্য সংগঠন ‘ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্য। ২০ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে প্রতিদিনের মতো সোহাগী ঘর থেকে বের হন। বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে। কিন্তু চেষ্টা ব্যর্থ হলে যে বাসায় টিউশনি করতেন সেখানে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ওই বাসা থেকে তিনি বের হয়ে গেছেন।
খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাসের অভ্যন্তরে পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংক সংলগ্ন স্থানে সোহাগীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। গলাকাটা মৃতদেহ নগ্ন অবস্থায় কালভার্টের পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর পড়েছিলো। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিলো। মোবাইল ফোনটিও পড়েছিল পাশে।
এ কেমন বর্বরতা ? সভ্য সমাজে তা মানা যায় না। কথা হচ্ছে, আমরা সাধারণ পরিবারের সন্তান। খুব চাহিদা আমাদের নেই। শুধু এই বিষয়টি কি করে কাকে বুঝাই। মানুষ হয়ে যদি মানুষ না বুঝি তা হলে কিসের রাষ্ট্র আর কিসের গণতান্ত্রিক সরকার! গণতন্ত্রের কোনো সংজ্ঞাই এই সমাজে আলো ফেলেনি। ফলে ফেলানীরাও ফেলনা হয়ে যায়। এই সামজের সাধারণ মানুষের নুন্যতম প্রয়োজনটুকু মেটালেই খুশি। কিন্তু তাও অধরা! সেনানিবাসেও একটি মানুষের নিরাপত্তা নেই!হায়রে দেশ! অন্যদিকে জনগণের রাষ্ট্র হলেও কোনো সিদ্ধান্তে এরা যেতে পারে না। কখনো যাবার স্বপ্ন দেখাটাও অপরাধ। যাক আমরা সুস্থ্যভাবে বাঁচতে চাই। দুমুঠো খেতে চাই। বোনরা নিরাপদে বাসায় ফিরতে চায়। সমাজের সাথে মানুষের মিলন চায়।
খ...।
রাষ্ট্রের ধর্ম দুর্বলকে রক্ষা আর দুর্জনকে প্রতিরোধ অথচ সমাজে আজ দ্বন্দ্ব-হানাহানি, রাজনৈতিক কলহ-অস্থিরতা, সামাজিক অবক্ষয়, সহিংসতা বেড়েই চলছে। কখনো বা চলে রক্ষার নামে শুভঙ্করের ফাঁকি।
স্বপ্ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে কিন্তু নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের নিম্নবর্গীয় স্বপ্ন প্রাগৈতিহাসিক গল্প, উপন্যাসের মতো মলাটবন্দি। তনুর ঘটনার পর মনে পড়ে ঢাবির তাজা স্বপ্ন আবুবকর, জাবির জুবায়ের, পুরানো ঢাকার বিশ্বজিৎদেরও সাদামাটা স্বপ্ন ছিল। বিজয়মাসে হৃদয় দিয়ে বুঝলাম--সবার স্বপ্ন পূরণ হয় না, নিয়তির নিয়মে থাকে অধরা এবং বিশ্বজিতের মৃত্যু দৃশ্য চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল-আমল বদল হলেও জনতার আমলনামা পরিবর্তন হয় না। অথচ এ শ্রেণীর মানুষের ওপরই রাষ্ট্র টিকে থাকে!
এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সমাজ পরিবর্তনের দৃশ্য অদৃশ্য ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক বিচিত্র দহন থেকেই সৃজনশক্তি প্রলুব্ধ হয়ে ভেসে আসুক ভিন্ন স্বর। নির্মিত হোক নয়া পৃথিবী।
বন্ধুরা, খেলার আবেগের সাথে তনুদের ভুলে গেলে আগামীর শিকার আপনি!
আমি! সমাজ!
রাষ্ট্র না!

বাবা-মায়ের পাশে অনন্ত ঘুমে দিতি

বিনোদন সময় ডেস্ক : দিতি সেখানে তাঁর দাদির কবর, পাশেই আছেন বাবা-মা। আর ঠিক তাঁদের পাশেই অনন্ত ঘুমের জন্য জায়গা পেলেন চিত্রনায়িকা পারভীন সুলতানা দিতি। গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে দত্তপাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে মসজিদের মাঠে তাঁর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পরিচালনা করেন দিতির মামা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন। জানাজায় দিতির ছেলে সাফায়েত হোসেন দীপ্ত চৌধুরী, তাঁর বড় ভাই মনির হোসেন, পারভেজ হোসেন, আনোয়ার হোসেনসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
দত্তপাড়া কবরস্থানে সমাহিত করার আগে ঢাকার এফডিসি ও গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে লাশবাহী গাড়িতে করে বেলা একটার আগে দিতির মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। জোহরের নামাজের আগে তাঁর মরদেহ দত্তপাড়া জামে মসজিদের মাঠে আনা হয়। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে এফডিসির জানাজায় অংশ নেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। দিতির অন্য সহকর্মীদের মধ্যে ছিলেন অভিনয়শিল্পী আলমগীর, রুবেল, ওমর সানী, চম্পা, আহমেদ শরীফ, মিজু আহমেদ, জাহিদ হোসাইন শোভন, আজমেরী বাঁধন, আফসানা বিন্দু, খালেদা আকতার কল্পনা, নাসরিন, সাবরিনা নিসা, মুনিয়া, পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, এস এ হক অলীক, ইদ্রিস হায়দার, শাহ আলম কিরণ, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু প্রমুখ।
এফডিসিতে জানাজা শেষে সহকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দিতির কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এদিকে দত্তপাড়ায় প্রিয় অভিনেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে তাঁর সহকর্মী, বন্ধুবান্ধবসহ এলাকার অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান। এসময় দিতির পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গত রবিবার বিকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতি। ১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দিতির জন্ম। ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন তিনি। ৩১ বছরের অভিনয়জীবনে দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন দিতি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘ধূমকেতু’ ছবিটি।
সিনেমার পাশাপাশি টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন দিতি। পরিচালনা করেছেন নাটক। এছাড়া রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করেছেন। অভিনয়ের বাইরে মাঝেমধ্যে গান গাইতেও দেখা গেছে তাঁকে। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একক গানের অ্যালবামও। বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলও হন তিনি। দিতির সংসারে লামিয়া ও দীপ্ত নামের দুই সন্তান রয়েছে।

জাতীয় ব্যাডমিন্টনে অংশ নিচ্ছে ফেনী

ক্রীড়া সময় ডেস্ক : ৩৪ তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নিচ্ছে ফেনী জেলা দল। রবিবার বেলা ১১ টার দিকে ফেনীর ৭ সদস্যের খেলোয়াড় দল ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ব্যাডমিন্টন টিমে রয়েছে রাজেশ চন্দ্র দে, জাহাঙ্গীর আলম পারভেজ, আবু সালেহ আরাফাত, কায়েস মাহমুদ অপু, পংকজ কুমার বণিক, আবদুল্লা আল মামুন। টিম ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় তসলিম উদ্দিন হাজারী।

৬৪ তে পা রাখলেন কবি মনজুর তাজিম

সময় রিপোর্ট : ৬৪ তে পা রাখলেন কবি মনজুর তাজিম। ১৯৫২ সালের ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ায় পিতার কর্মস্থলে জন্মগ্রহন করেন। তার মাতা ফেরদৌস আরা বেগম ও মরহুম পিতা কাজী আহমেদুল হক এর দ্বিতীয় সন্তান। তারা ৪ ভাই ও ৪ বোন। তিনি ছোটকাল থেকে গ্রামের বাড়ী ছাগলনাইয়া উপজেলার হরিগ্রামে তাঁর শৈশব কাটে। তখন থেকে তার লেখালেখির হাতেখড়ি। তিনি ফেনী পাইলট হাই স্কুল থেকে ১৯৭০ সালে ম্যাট্টিক পাশ করে ফেনী সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে নোয়াখালী সরকারী কলেজ থেকে øাতক ডিগ্রী অর্জন করে।
এ যাবতকালে তার অন্তত ১০টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি অব্যাহতভাবে লিখে চলেছেন। কবির সহধর্মীনির নাম বিফলা তাজিম। অপু ও তপু দুই যমজ সন্তানের জনক।

ইন্টারনেটে বোকা হচ্ছে মানুষ !

সময় ডেস্ক : ইন্টারনেটের হাত ধরে মানুষ যখন দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় বেঁধে ফেলেছে, তখন ‘অন্তর্জাল’-এর ব্যবহারের ওপর প্রশ্ন তুললেন বিজ্ঞানীরা৷ নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনের ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী মানুষের পড়াশোনা সংক্রান্ত আচরণের ওপর গবেষণা করতে গিয়ে খুঁজে পেলেন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ তারা জানাচ্ছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে মানুষ দিন দিন বোকা হয়ে যাচ্ছে৷ ইন্টারনেটের বিশাল জগত আমাদের সামনে সীমাহীন তথ্যভাণ্ডার তুলে দিয়েছে। কিন্তু অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় পড়লে মানুষের চেতনা বা বোধশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা৷
ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ভ্যাল হুপার ও তার সহযোগী গবেষক চান্না হেরাথ অনলাইনে পড়াশোনা এবং অফলাইনে (বইপত্র) পড়াশোনার ধরন ও প্রভাব নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এতে দেখা যায়, ইন্টারনেটভিত্তিক পড়াশোনায় মানুষের মনে রাখার সামর্থের ওপর কোনোও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে না। তারা অনেক সময় নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেন।
অন্যদিকে, বই পড়ে মানুষ যে পরিমাণ গভীর মনোযোগ, উপলব্ধি, তথ্যধারণ ও স্মৃতিচারণা করতে পারেন, অনলাইন পড়াশোনায় তা সম্ভব নয়৷ইন্টারনেটে নিবিড় পড়াশোনার পরিবর্তে সাধারণত দ্রুত পড়ার প্রতি আকৃষ্ট হয় মানুষ। আবার ই-মেল, সংবাদ অনুসন্ধান, বিভিন্ন লিঙ্কে ঢুঁ মারা বা ভিডিও ক্লিপস দেখতে গিয়ে অনলাইনে নিবিড় পড়াশোনায় বিঘœ ঘটে৷হুপার বলেন, কম্পিউটারে পড়াশোনা করতে গেলে মনোযোগ অন্যদিকে যাবেই। এটাই প্রত্যাশিত৷
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, মনে রাখার সুবিধার্থে অনেকে ইন্টারনেটের বিভিন্ন বিষয় কাগজে প্রিন্ট করে নিয়ে তারপর পড়েন। এতে তাদের মনোযোগ বেশি থাকে এবং পড়াশোনার সুফলও পুরোপুরি পাওয়া যায়। আর সে কারণেই লোকজন এখনও কাগজে ছাপা অক্ষর পড়তেই বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন৷- ওয়েবসাইট।

April 2016
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
27 28 29 30 31 1 2
3 4 5 6 7 8 9
10 11 12 13 14 15 16
17 18 19 20 21 22 23
24 25 26 27 28 29 30